রেমিট্যান্সের বড় ধাক্কা

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২১, ২১:২৩

১৫ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন

ইত্তেফাক রিপোর্ট

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ১৭২ কোটি ৬০ লাখ (১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ধরে) যার পরিমাণ ১৪ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা। যা ১৫ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন আয়। এর আগে গত বছরের মে মাসের পরে এক মাসে এত কম রেমিট্যান্স আর আসেনি। ওই মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১৫০ কোটি ৪৬ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৬ কোটি ১৪ লাখ মার্কিন ডলার। বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ১৩২ কোটি মার্কিন ডলার। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৭৬ লাখ ডলার। দুটি বিশেষায়িত ব্যাংকের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩ কোটি ৭২ লাখ মার্কিন ডলার।

বরাবরের মতই গত মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকটির মাধ্যমে ৪৬ কোটি ১৬ লাখ ডলার এসেছে। এরপর ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ২০ কোটি ৩৬ লাখ, অগ্রণী ব্যাংক ১৪ কোটি ৮৮ লাখ, সোনালী ব্যাংক ১১ কোটি ১১ লাখ এবং পূবালী ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এই সময়ে সরকারি বিডিবিএল, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বিদেশি ব্যাংক আল-ফালাহ, হাবিব ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স পাঠাননি প্রবাসীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে আসে। যা আগের অর্থবছরের (২০১৯-২০) চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ হাজার ৮২০ কোটি ডলার বা ১৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে। অর্থবছরের হিসাবে এ যাবত্কালে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে ২০২০-২১ অর্থবছরে।

প্রসঙ্গত, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়। বৈধ উপায়ে প্রবাসী আয় বাড়াতে এমন সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সে অনুযায়ী, ঐ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠালে প্রতি ১০০ টাকার বিপরীতে ২ টাকা প্রণোদনা পেয়ে আসছেন। তবে সম্প্রতি রেমিট্যান্স কমতে শুরু করেছে।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট পেশের সময় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ঘোষণা করেন যে, ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়াতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকসমূহে বিশেষ প্যাকেজ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। আর প্রবাসীদের পাঠানোর রেমিট্যান্সের ওপর এখন যে ২ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে তাও অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী।