কী করে ঘটল এমন ঘটনা?

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২১, ২১:৩০

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সেহেরীন মাহমুদ সাদিয়ার যেভাবে মৃত্যু হয়েছে, তা খুবই মর্মান্তিক। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় ফুটপাতের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পা পিছলে নালায় পড়ে তার মৃত্যু হয়। সাদিয়ার সঙ্গে তার মামাও ছিলেন। সাদিয়া নালায় পড়ে যাওয়ার পর তাকে বাঁচাতে মামা নালায় লাফিয়ে পড়লেও স্রোতের কারণে তিনি ভাগ্নিকে খুঁজে পাননি। মুহূর্তেই সাদিয়া পানিতে তলিয়ে যান। এ সময় আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। তারাও নালার এদিক-ওদিক খুঁজে দেখে। খোঁজ না পেয়ে তখনই খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসে। দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার তত্পরতা শুরু করলেও দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা আবর্জনার স্তূপের কারণে তারা স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছিল না। পরে ফায়ার সার্ভিস ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) দুটি এক্সকেভেটর এনে আবর্জনা পরিষ্কার করতে করতে সামনের দিকে অগ্রসর হন ডুবুরিরা। রাত তিনটের দিকে সাদিয়ার লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল। এভাবে একজন মানুষ মুহূর্তে লাশ হয়ে যাবে—এটা মেনে নেওয়া কঠিন। নগরীতে এমন ঝুঁকিপূর্ণ নালা বা ‘মৃত্যুফাঁদ’ যাতে না থাকে, সেজন্য বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ আছেন; রয়েছে নজরদারির ব্যবস্থা। প্রশ্ন হলো, এত ব্যবস্থা থাকার পরও এমন ঘটনা কী করে ঘটল? গত ২৫ আগস্ট মুরাদপুর এলাকায় নালায় পড়ে নিখোঁজ হন এক ব্যবসায়ী। আজো তার খোঁজ মেলেনি। এজন্য সংশ্লি­ষ্ট প্রতিটি কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

সৈয়দ আশিকুজ্জামান আশিক

গবেষণা সহকারী, সিআরআইডি, ঢাকা