তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বিশ্বে যেনো আর কোনো শিশুকে শেখ রাসেলের মতো জীবন দিতে না হয়, এই রকম কলঙ্কজনক অধ্যায় যেনো আর কেউ তৈরি করতে না পারে, তার জন্য আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি শিশু-কিশোরের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস, শেখ রাসেলের সংগ্রামী জীবন এবং তার যেই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড সেটি আমরা তুলে ধরতে চাই।
১৯৭৫ সালে সেই হত্যাকান্ডের পর সেই খুনিরা যাতে তাদের বিচার না হয় সেই জন্য এক কালো অধ্যায় তৈরি করেছিলো ততকালীন শাসকরা। সেই তথ্য উপাত্ত আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌছে দিতে চাই বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
রবিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ার -এর বিসিসি অডিটরিয়ামে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আয়োজনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল এর জন্মদিন ১৮ই অক্টোবরকে শেখ রাসেল দিবস হিসেবে ঘোষণা উপলক্ষ্যে শেখ রাসেল ওয়েবসাইট এবং অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতা উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন ।
এসময় তিনি, আগামী ১৮ অক্টোবর সকাল ৭টায় বনানী কবরস্থানসহ সকল সরকারী দফতরে স্ব-স্ব অবস্থানে শেখ রাসেলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সেই দিবসের কর্মসুচী শুরু করতে অনুরোধ করেন। এসময় সারাদেশের জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদসহ সারাদেশে বিভিন্ন আয়োজনের কথা জানান। এছাড়াও সন্ধ্যা ৭টায় আইনমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কনসার্ট ফর পিস আয়োজনের কথাও জানান তিনি।

পলক বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ যে গত ২৩ আগস্ট ২০২১ তারিখে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রতি বছর ১৮ই অক্টোবর তারিখ ‘শেখ রাসেল দিবস’ ‘ক’ শ্রেণীর দিবস হিসেবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের এই দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, বাংলাদেশের কোটি কোটি শিশু, কিশোর ও তরুনদের কাছে শেখ রাসেলের জীবন ও শৈশবকে তুলে ধরা।
পরে প্রতিমন্ত্রী শেখ রাসেল দিবসের কর্মসূচি বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং শেখ রাসেল ওয়েবসাইট ও অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের মহাসচিব কে এম শহীদুল্লাহ বলেন, পরিবারের সকলের প্রিয় ছোট্ট শোনামনি শেখ রাসেল খুব কম সময়েই তাঁর পিতাকে কাছে পেয়েছেন। তবে ছোটকাল থেকেই তাঁর হাটাচলা ছিল বঙ্গবন্ধুর মত এবং এমনকি পোশাকটিও পরতো বাবার মত করে। তিনি অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত কন্ঠে বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট নৃশংস হত্যাযজ্ঞে পাষাণ ঘাতকের মন এতটুকু টলেনি নিষ্পাপ শিশু শেখ রাসেলের আকুতিতে। মায়ের কাছে যাবার প্রাণপণ আর্তিতে কর্ণপাত করেনি খুনীরা।” সবশেষে তিনি শেখ রাসেলকে অত্যন্ত নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যার তিব্র নিন্দা জানান।
আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম বলেন, এই আয়োজনটি এখন জাতীয় পর্যায়ে রূপ নিয়েছে। আমি আশা করি, আমাদের শিশু কিশোরদের মনে শেখ রাসেলের যে আদর্শটি প্রভাবিত করতে সহোযোগিতা করবে। আমরা চাই একটি উন্নত বাংলাদেশ যেখানে তথ্য ও প্রযুক্তি থাকবে এবং যেখানে একটি সুন্দর আদর্শের মাধ্যমে যুব সমাজ ও শিশু কিশোররা গড়ে উঠবে। এই আদর্শের মূল জায়গাটি হচ্ছে শেখ রাসেলের শিশু জীবনের জীবন আদর্শ যা থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে দেশ গঠনের জন্য আগামীতে তৈরি হবে।
শেখ রাসেল-কে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে স্বাগত বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) এ. বি. এম. আরশাদ হোসেন বলেন, “আমরা এখন কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে চিন্তা করছি। তিনিও বেঁচে থাকলে হয়তো বা সামিল হতেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মাণে। ভিশন ২০২১, ২০৩০, ২০৪১, ডেল্টা প্ল্যান, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব নিয়ে তার বোন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয় এখন যেমন দেশের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন, বেঁচে থাকলে তিনিও নিঃসন্দেহে নিজেকে দেশের জন্য নিয়োজিত রাখতেন।
ইত্তেফাক/আরকে
