দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ সুপারিশকাণ্ডে বিস্মিত সংসদীয় কমিটি

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২১, ২৩:২০

শামছুদ্দীন আহমেদ

লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)’র শূন্য পদে নিয়োগের সুপারিশকাণ্ডে স্তম্ভিত সংসদীয় কমিটি। এ ঘটনা কীভাবে ঘটেছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে কমিটি মন্ত্রণালয়ের কাছে দ্রুত প্রতিবেদন চেয়েছে। গতকাল রবিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই প্রতিবেদন চাওয়া হয়।

বৈঠক শেষে সংসদীয় কমিটির সভাপতি এবি তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগ ওঠায় মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ঐ নিয়োগপ্রক্রিয়া স্থগিত করেছে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, যারা চাকরির জন্য আবেদনই করেনি, আবেদন করলেও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি, আবার লিখিত পরীক্ষা না দিয়েই সরাসরি মৌখিক পরীক্ষা দিয়ে নিয়োগের সুপারিশ পেয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি করেছে। আমরা তদন্ত রিপোর্টটি চেয়েছি। জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সেটি মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি।’

জানা গেছে, সিপিপির জুনিয়র সহকারী পরিচালক, সহকারী কাম রেডিও অপারেটর, বেতার প্রকৌশলী ও আইটি বোর্ড প্রকৌশলীসহ ১৮টি ক্যাটাগরির ১০৮টি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য গত ২৮ আগস্ট ঢাকার মতিঝিলের একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লিখিত পরীক্ষা হয়। একদিন পর ৩০ আগস্ট (জুনিয়র সহকারী পরিচালক ক্যাটাগরির ১১টি পদে) ৫ হাজার ১ জন পরীক্ষার্থীর খাতা দেখে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল দেওয়া হয়। এরপর ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর পর্যায়ক্রমে তাদের সবার মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জুনিয়র সহকারী পরিচালক পদে সাবাহ বিন হোসাইন লিখিত পরীক্ষায় পাশ না করেও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে নিজের চাকরি নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে সহকারী কাম রেডিও অপারেটর পদে মো. সুমন লিখিত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চাকরির সুপারিশ পান।

এরকম অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পরদিন সিপিপির উপসচিব সুস্মিতা ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয়, ‘সিপিপির ১৮টি ক্যাটাগরির মোট ১০৮ জন জনবল নিয়োগ কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হলো’। পাশাপাশি এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

ঘটনার সময় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ছিল, অর্থের বিনিময়ে লিখিত পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়েছিল। তাই নিয়োগ কার্যক্রম শুধু স্থগিত নয়, বাতিলের দাবি তোলেন তারা। জানা গেছে, নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করার পরও নতুন করে আরো দুজনের নাম যুক্ত করে আবার ফলাফল প্রকাশ করেছিল সিপিপি। এছাড়া সিপিপির কর্মকর্তার সন্তানের নামও একই কায়দায় ঢুকনো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সিপিপির পরিচালক (অপারেশন) ও নিয়োগ বোর্ডের সদস্য মো. নুরুল ইসলামের ছেলে মুহাইমিনুল ইসলামও নিয়োগের সুপারিশ পেয়েছিলেন। যদিও সিপিপির পরিচালক (প্রশাসন) ও জনবল নিয়োগ কমিটির সদস্য-সচিব আহমাদুল হকের দাবি, এ নিয়োগ নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়েছে।

সংসদীয় কমিটির সভাপতি এবি তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য—দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, লে. জে. (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, মজিবুর রহমান চৌধুরী ও জুয়েল আরেং অংশ নেন।

এদিকে, গতকালের বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আতিকুল ইসলাম কর্তৃক সমপ্রতি অধিদপ্তরে লোকবল নিয়োগে অনিয়ম তদন্তে একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংসদীয় কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হয়। এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি এবি তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘কম্পিউটার অপারেটরসহ বিভিন্ন পদে ডিজি লোক নিয়োগ দিয়েছেন, তাতে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করতে উপ-কমিটি করে দেওয়া হয়েছে।’ উল্লেখ্য, সংসদীয় কমিটির বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ডিজি মো. আতিকুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।