মতলবে রুহুল ও মায়ার কর্মীদের সংঘর্ষ

পরস্পরকে দায়ী করছে দুই পক্ষ

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২১, ২৩:২৩

গত শনিবার চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল ও সাবেক ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার জন্য দুই পক্ষ একে অন্যকে দায়ী করছে। শনিবারের ঐ সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হয়। সংঘর্ষকালে ৩০টিরও বেশি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শনিবার সকালে মতলব সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা  গেছে, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে চাঁদপুর স্টেডিয়ামে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। সভায় যোগদানের জন্য সকাল ৮টা থেকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার মতলব সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় সংসদ সদস্য নুরুল আমিন রুহুল ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার অনুগত নেতাকর্মী ও সমর্থকরা জড়ো হন। শুক্রবার  বিকালে টোল প্লাজায় পথসভার জন্য একটি মঞ্চও তৈরি করেন সংসদ সদস্য রুহুলের পক্ষের লোকজন।

সকাল সাড়ে ৯টায় মঞ্চের পাশ দিয়ে মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি,  শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলমসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ জেলা শহরে যাওয়ার সময় সংসদ সদস্য রুহুলের অনুগত নেতাকর্মীরা তাদের অভিনন্দন জানান। এ সময় ঐ মঞ্চে  ওঠে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন মাহবুব উল আলম হানিফ। পরে সেখান থেকে জেলা শহরের উদ্দেশে রওনা দেন এমপি রুহুল। সেখানে মায়া ও রুহুলের লোকেরা মিছিল বের করেন। এ সময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে অন্তত ৩০টি ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ভেঙে ফেলা হয় মঞ্চ। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হন।

সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন রুহুলের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী ও মতলব উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মহসিন মিয়া মানিক অভিযোগ করেন, এলাকায় ত্রাস ছড়ানো এবং রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যেই মায়ার লোকেরা তাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। এতে তাদের পক্ষের ১০ কর্মী আহত হয়েছে।

এদিকে সাবেক ত্রাণমন্ত্রী ও চাঁদপুর-২ আসনের সাবেক এমপি মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রমের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজমল হোসেন চৌধুরী, ছাত্রলীগ নেতা সেলিম রেজাসহ বেশ কয়েকজন কর্মী দাবি করেন তাদের ওপর এমপি রুহুলের লোকেরা এ হামলা চালিয়েছে। ঘটনার জন্য তারা দায়ী নন।

খবর পেয়ে চাঁদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) ইয়াসির আরাফাত ও মতলব দক্ষিণ থানার ওসি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিয়া পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং উভয় পক্ষের কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ওসি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিয়া জানান, এখনো কোনো পক্ষ মামলা করেনি। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।