এমপি কুদ্দুসের গাড়ি দেখলে পুড়িয়ে দেবেন, দায় আমার

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২১, ২৩:২৪

নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুসের গাড়ি পুড়িয়ে ফেলার হুমকি দিয়েছেন বড়াইগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে আয়োজিত এক সভায় তিনি প্রকাশ্যে তার কর্মী-সমর্থকদের এমপির গাড়ি পোড়ানোর নির্দেশ দেন। এর মধ্য দিয়ে এই এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক কোন্দল আবার প্রকাশ্যে এলো।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, বড়াইগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর বড়াইগ্রামের চান্দাই ইউনিয়নের ২ নম্বর দিয়ার গাড়ফা গ্রামে সভা আয়োজন করেন পাটোয়ারীর সমর্থকরা। ঐ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, ‘নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা হয়েছে। বড়াইগ্রামের রাস্তায় এমপি কুদ্দুসের গাড়ি দেখলে পুড়িয়ে দেবেন, দায় আমার।’

পাটোয়ারীর এই বক্তব্য গতকাল রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় চান্দাই ইউনিয়নের ২ নম্বর দিয়ার গাড়ফা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার উদ্দিন মোল্লা চেয়ারম্যান পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে বড়াইগ্রাম থানায় জিডি করেছেন।

দলীয় সূত্র বলছে, বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী ২০১৫ সালের দিকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই এমপি আব্দুল কুদ্দুসকে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে কটাক্ষ করতেন। মূলত তখন থেকেই বড়াইগ্রাম আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

বড়াইগ্রাম থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী এমপির গাড়ি পোড়ানোর নির্দেশ দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘এমপি কুদ্দুস বিভিন্ন সময় নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছেন। দলের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি করেছেন। এ কারণে আমি দলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতেই এমপি কুদ্দুসের গাড়ি পোড়ানোর অনুমতি দিয়েছি।’

এদিকে এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা আওয়ামী লীগ  নেতা সরোয়ার উদ্দিন মোল্লা বলেন, এমপি কুদ্দুস আওয়ামী লীগের প্রবীণ একজন রাজনীতিবিদ। তিনি সাত বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রামের উন্নয়নে তার ব্যাপক অবদান রয়েছে। এ কারণে সাধারণ মানুষ বারবার                 কুদ্দুসকেই বেছে নিয়েছেন। কিন্তু সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী এমপির এই জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে বারবার তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কুত্সা রটাচ্ছেন। এ কারণে তিনি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেছেন। তিনি এই ঘটনার বিচার দাবি করেন। 

নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস জানান, তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। জনপ্রিয়তা আছে বলেই প্রধানমন্ত্রী তার ওপর এই দীর্ঘ সময় আস্থা রেখেছেন। কিন্তু তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষরা রাজনৈতিক বিভেদ তৈরি করছেন। দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গে মেতে উঠেছেন। তিনি বলেন, ‘বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী তাকে নিয়ে যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন তার জবাব বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুরের জনগণই দেবেন।’ 

দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এমপি কুদ্দুস ও সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারীর মধ্যে রাজনৈতিকভাবে বিভক্তি রয়েছে। এর আগেও এমপিকে একাধিকবার বড়াইগ্রাম থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে পাটোয়ারী গ্রুপ। এছাড়া সংসদ নির্বাচন, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এবং দলীয় কাউন্সিলে এমপি ও চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। এসব কারণে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যেও তীব্র অসন্তোষ রয়েছে।