মুহিবুল্লাহ হত্যায় দুই রোহিঙ্গা যুবক তিন দিনের রিমান্ডে

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২১, ২৩:৩০

রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার চার জনের মধ্যে দুই জনকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় উখিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জেষ্ঠ্য বিচারিক হাকিম তামান্না ফারাহ শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুরের আদেশ দেন। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় তাদের দুজনকে আদালতে উপস্থাপন করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল।

কক্সবাজার আদালত পুলিশের পরিদর্শক চন্দন কুমার চক্রবর্তী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রিমান্ড আদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন, কুতুপালং ক্যাম্পের সি-ব্লকের বাসিন্দা নুর বশরের ছেলে সেলিম উল্লাহ ওরফে লম্ব্বা সেলিম (২৭) ও মধুরছড়া ৩ নম্ব্বর ক্যাম্পের ডি-১৫ ব্লকের রহিম উল্লাহর ছেলে শওকত উল্লাহ (২৫)।

এদিকে, রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মো. ইলিয়াছ (৩৫) নামে এক জনকে গ্রেফতার করেছে এপিবিএন। রবিবার বেলা ১২টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ৫ নম্ব্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান, ১৪ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক পুলিশ সুপার মো. নাইমুল হক।

এর আগে গত শুক্রবার উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে গ্রেফতার হয় মো. সলিম (৩৩) ও শওকত উল্লাহ (২৩)। শনিবার গ্রেফতার করা হয় আব্দুস সালাম (৩২) ও জিয়াউর রহমান (৩২) নামের আরো দুই রোহিঙ্গাকে।

কক্সবাজার কোর্ট ওসি চন্দন কুমার সরকার বলেন, রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শনিবার ভোররাতে এবং শুক্রবার সকাল ও দুপুরে উখিয়া থানা পুলিশ এবং ১৪ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পুলিশ (এপিবিএন) অভিযান চালিয়ে চার জনকে আটক করে। এদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেফতার দেখিয়ে শওকত উল্লাহ ও লম্ব্বা সেলিমকে শনিবার বিকালে আদালতে প্রেরণ করা হয়। এসময় তাদের আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে বিচারক শুনানির জন্য রবিবার দিন ধার্য করেছিলেন। সেই মতে, রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শুনানি শেষে আদালত দুজনকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছে।

এদিকে, শনিবার ভোররাতে ১৪ এপিবিএন-এর সদস্যরা বিভিন্ন ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আব্দুস সালাম (৩২) ও জিয়াউর রহমানকে (৩০) গ্রেফতার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। তাদের মধ্যে আব্দুস সালামকে লম্বাশিয়া ১-ইস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে এবং জিয়াউর রহমানকে কুতুপালং ৮-ইস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর গতকাল রবিবার তাদের আদালতে পাঠায়। রবিবার গ্রেফতার ইলিয়াছকেও আদালতে প্রেরণ করা হয়।

এ নিয়ে রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উখিয়া থানার এসআই কার্তিক চন্দ্র পাল।

উল্লেখ্য, মাস্টার মুহিবুল্লাহ (৫০) আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি পিস ফর হিউম্যান রাইটস নামে একটি সংগঠনের চেয়ারম্যান ছিলেন। গত বুধবার রাতে কুতুপালং ক্যাম্পের লম্ব্বাশিয়ায় তাকে গুলি করে হত্যা করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু এলাকার স্কুলশিক্ষক মুহিবুল্লাহ রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার, নিরাপদে দেশে প্রত্যাবাসন ও তাদের মানবাধিকার নিয়ে সোচ্চার ছিলেন। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম তাকে ‘রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর’ হিসেবেও আখ্যায়িত করে।