বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সিবিএ নেতা আলাউদ্দিন মিয়ার কাছ থেকে একটি পাজেরো জিপ গাড়ি জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার মতিঝিলে অভিযান চালিয়ে দুদক টিম গাড়িটি জব্দ করে। গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো ঘ-১১-২৮২৭। সিবিএ নেতা আলাউদ্দিন মিয়া বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের নকশা ও পরিদর্শন পরিদপ্তরের স্টেনো টাইপিস্ট পদের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ছিলেন। বর্তমানে তিনি অবসরোত্তর ছুটিতে রয়েছেন।
দুদক জানিয়েছে, পিডিবিতে কর্মরত অবস্থায় দুর্নীতির মাধ্যমে এবং কর্তৃপক্ষকে অন্যায়ভাবে প্রভাবিত করে আলাউদ্দিন পাজেরো জিপটি দখল করে রেখেছিলেন। সূত্র জানায়, দুদকের অভিযোগ কেন্দে (হটলাইন ১০৬) এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ আসে। তার ভিত্তিতে দুদক মহাপরিচালক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরীর নির্দেশে গতকাল সকালে প্রতিষ্ঠানটির পুলিশ ফোর্স এবং চৌকস কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করা হয়। বেলা ১১টার দিকে ওই টিম মতিঝিলে অভিযান চালিয়ে গাড়িটি আটক করে। আটকের সময় গাড়িচালক আবুল হোসেন জনি এবং নিরাপত্তা প্রহরী সামছু মিয়া ঘটনাস্থলে ছিলেন।
অভিযান প্রসঙ্গে মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, ৩য় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও গাড়িটি ২০০৯ সাল থেকে অবৈধভাবে ব্যবহার করেছেন তিনি। এর পেছনে জ্বালানি তেল, মেরামত এবং ড্রাইভারের বেতন বাবদ সরকারের বিপুল অর্থ নষ্ট হয়েছে। আইন অনুযায়ী, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের কোনোভাবেই ফুল টাইম গাড়ি পাওয়ার সুযোগ নেই। এভাবে আইন অমান্য করা প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ধ্বংস করার শামিল, যা’ ছোট দুর্নীতি থেকে বড় দুর্নীতির পথ প্রশস্ত করে। দুদক শীঘ্রই এ ঘটনা অনুসন্ধান করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
অভিযানকালে দুদক টিম জানতে পারে, সিবিএ নেতা আলাউদ্দিন ২০০৯ সাল থেকে গত ১০ বছরে গাড়িটির জন্য পিডিবি থেকে প্রতি মাসে ৪৫০ লিটার ডিজেল বরাদ্দ নিতেন, যার আর্থিক মূল্য ২৯ হাজার ২৫০ টাকা। এ হিসাবে গত ১০ বছরে তিনি কেবল ডিজেল খরচ বাবদ তুলেছেন ৩৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। প্রতিমাসে গাড়িটির পেছনে ১০ লিটার মবিল ছাড়াও মেরামত ব্যয়ও হয়েছে। এর বাইরে পিডিবি থেকে প্রতি মাসে ড্রাইভারের বেতন বাবদ ৪১ হাজার টাকা হারে এ পর্যন্ত এ গাড়ির ড্রাইভারকে ৩৭ লক্ষাধিক টাকা বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়েছে। এভাবে কোটি টাকার সরকারি আর্থিক ক্ষতি সাধন করেছেন এই কর্মচারী। গাড়িটির লগ বইয়ে আলাউদ্দিন মিয়া নিজে স্বাক্ষর না করে পিডিবি’র অপর একজন কর্মচারীর নাম স্বাক্ষর করিয়ে গাড়ির সুবিধাটি নিয়েছেন।
