মেঘনা নদী ফাঁকা জেলেরা ডাঙায়

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২১, ২১:২৭

চাঁদপুর প্রতিনিধি

মা-ইলিশ সংরক্ষণে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে সরকার। ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে মেঘনা নদী এখন ফাঁকা। জেলেরা নৌকা ও জাল নিয়ে ডাঙায়। নদীতে টহল দিচ্ছে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স।

রবিবার মধ্যরাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত সদর, হাইমচর ও মতলব উত্তর তিনটি পৃথক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে কোনো জেলে আটক হয়নি বলে জানিয়েছে জেলা মত্স্য বিভাগ।

সোমবার সকালে সদর উপজেলার আনন্দ বাজার, রনাগোয়াল, দোকানঘর, বহরিয়া, রামদাসদী, লক্ষ্মীপুর, হরিণা ও আখনের হাট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে হাজার হাজার জেলে তাদের নৌকা উপরে উঠিয়ে জাল মেরামত কাজে ব্যস্ত। সদরের রামদাসদী এলাকার জেলে আনোয়ার হোসেন বলেন, মা ইলিশ দেশের ও আমাদের সম্পদ। যার কারণে সরকার অভিযান দিলে আমরা মেনে চলি। আমরা চাই ২২ দিনের এই অভিযান খবুই কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হোক। যদিও এই সময়টাতে আমরা বেকার থাকি, সংসার চলে খুবই কষ্টে। কারণ যে ২০ কেজি চাল দেওয়া হয়, তাতে কিছুই হয় না। একই এলাকার অপর জেলে আব্বাস খান বলেন, মা-ইলিশ ও জাটকা দুটিই ধরা বন্ধ করতে হবে। কারণ এ বছর আমরা মেঘনায় ইলিশ পাইনি। যার কারণে আমরা এখনো অনেক ঋণগ্রস্ত। হাইমচর সিনিয়র উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, মা-ইলিশ সংরক্ষণের জন্য হাইমচর হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। রবিবার মধ্য রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ১টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে মেঘনায়। এখন নদীতে অভিযান অব্যাহত আছে। তবে কোনো জেলেকে নদীতে নামতে দেখিনি।

এদিকে, সকাল ১১টায় মেঘনা নদীর মোহনায় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) অঞ্জনা খান মজলিশ ও পুলিশ সুপার (্এসপি) মিলন মাহমুদের নেতৃত্বে কোস্টগার্ড, মত্স্য বিভাগ ও নৌপুলিশ অভিযানে নেমেছে। এর পূর্বে শহরের বড় স্টেশন মোলহেডে জেলে, মত্স্য ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয় টাস্কফোর্সের পক্ষ থেকে।

চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল, নৌপুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) কামরুজ্জামান, কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশন কমান্ডার লে. এম ছাদিকুর রহমান, জেলা মত্স্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।