মানবেন্দ্র চক্রবর্ত্তী, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
সিংগাইরের জামির্ত্তা ইউনিয়নের সুদক্ষিরা, কহিলাতুলি,বকচর,পানিশাইল ও চন্দনপুর গ্রামে গত মাসে অন্তত ৪০টি বাড়ির নলকূপের মাথা , শ্যালোমেশিনের ইঞ্জিন ও পানির মোটর চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। কোনো মতেই চোরের উপদ্রুব ঠেকানো যাচ্ছে না। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মাদকাসক্তদের অবাধ বিচরণ। মাদকসেবীদের কারণেই এ সব চোরের উত্পাত বেড়ে গেছে বলে এলাকাবাসীর অভিমত। চোর আতঙ্কে কেউ কেউ রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।
চন্দনপুর গ্রামের নিখিল মনি দাস, যোগীরাম মনি দাস, সুনীল মনিদাস, ছারোয়ার হোসেন, খোকন মিয়া, লাট মিয়া,লালচাঁন জানান, এক রাতেই তাদের প্রতি বাড়ির নলকূপের মাথা চুরি হয়। কহিলাতুলি গ্রামের আবুবকর,নজরুল ইসলাম,আতা মোল্যা,ছানি মোল্যা, রমজান মোল্যা, শরিফ মোল্যার বাড়ি থেকেও এভাবেই একই ঘটনা ঘটে । উত্তর বকচরের ফজলুর করিম, সুরুয মিয়া ও উত্তর বকচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পানির মোটরও চুরি হয় বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়। এ ছাড়া বকচরের হযরত আলী, আইয়ুব আলীর বাড়ি থেকে শ্যালোমেশিন চুরি হয়। সুদক্ষিরার আফির উদ্দিন, জহির উদ্দিনের, আফাজ উদ্দিনের, হাসনা আরার, ননী গোপাল, সুরেশ মনি দাস, নারায়ণ মনিদাস, শংকর মনিদাস, রমেশ মনিদাস, লক্ষণ মনিদাস, লাল মোহন, হারিনা মনিদাস, রুপচান মনিদাসের বাড়ি থেকে নলকূপ চুরি হয় বলে তারা জানান। তবে কারো কারো বাড়িতে একাধিকবার চুরির ঘটনাও ঘটেছে।
সুদক্ষিরার শংকর মনিদাস জানান, ‘রাজমিস্ত্রি জোগালির কাজ করে খাই। অভাবের সংসার। নলকূপের মাথাটি চুরি হয়ে যাওয়ায় অন্য বাড়ি থেকে পানি আনতে হয়। এ গ্রামে আমার মতো আরো গরিব আছে, যাদের এটি কেনার সামর্থ্য নেই।’ এভাবেই এসব গ্রাম থেকে আরো ১০/১২টি বাড়ির নলকূপের মাথা ও মোটর পাম্প চুরি হয় বলে ব্যবসায়ী রঞ্জিত মনি দাস বলেন। জামির্ত্তা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম রাজু বলেন, ২০/২৫টি বাড়িতে চুরির খবর তিনি পেয়েছেন। তার দাবি চুরির সঙ্গে জড়িত মাদকাসক্তরা। শান্তিপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. খালিদ মনসুর বলেন, ‘এতগুলো বাড়িতে চুরি দাবি শ্রেফই গুজব। তবে অন্তত দুইটি বাড়ি থেকে নলকূপের মাথা চুরি হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে এক জন এসআইকে এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
