এক কিশোরী ছাত্রীর শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে ক্লাসে পাঠদান করিয়ে আলোচনায় পঙ্কজ মধু নামের এক শিক্ষক। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের চিনাইর আঞ্জুমান আরা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক। গত রবিবার থেকে এ ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এ ব্যাপারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
এ বিষয়ে শিক্ষক পঙ্কজ মধু বলেন, ‘করোনা মহামারির প্রথম দিকে গোপনে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর বিয়ে হয়ে যায়। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় বিষয়টি স্কুলের কেউ জানত না। সম্প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে এক ছাত্রীর অনুপস্থিতি দেখতে পাই। বিদ্যালয় থেকে ছিটকে পড়া শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনতে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করি। পরে ঐ ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে তার বিয়ে ও সন্তানের খবর পাই। তার পরও ছাত্রীর পরিবারকে অনুরোধ করি তাকে স্কুলে পাঠানোর। রবিবার ঐ ছাত্রী শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে স্কুলে আসে। সন্তান নিয়ে ঐ ছাত্রীর ক্লাস করতে কষ্ট হচ্ছে দেখে শিশুটিকে আমি কোলে নিই।’ তিনি আরো বলেন, ‘ভাইরাল হবে এমন কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। স্নেহ-মমতা থেকে শিশুটিকে কোলে নিয়ে ক্লাস করিয়েছি।’
সাবেকুন নাহার সাকিনা নামের ঐ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী বলে, ‘স্যার (পঙ্কজ মধু) আমাদেরকে স্নেহ করেন।’ চিনাইর আঞ্জুমান আরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন এ বিষয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জীবন ভট্টাচার্য বলেন, শিশুকে নিয়ে এভাবে স্কুলে যাওয়া ঠিক হয়নি, এতে শিশুসহ মায়ের ঝুঁকি রয়েছে। সরকার যেহেতু স্কুলের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করেনি। সেক্ষেত্রে এভাবে স্কুলে নেওয়া ঠিক নয়।
সিভিল সার্জন ডা. একরাম উল্লাহ জানান, করোনাকালীন শিশুকে নিয়ে এভাবে স্কুলে যাওয়ায় শিশুটির সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
