কৃষক আন্দোলনে উত্তাল ভারত

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২১, ২২:৪৭

ভারতের উত্তর প্রদেশে বিজেপির একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ছেলের গাড়িচাপায় চার কৃষক নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তাল ভারতের রাজনীতি। ভারত সরকারের প্রস্তাবিত কৃষি আইনের বিরুদ্ধে গত ১০ মাস ধরে যে বিক্ষোভ চলছে, লখিমপুর খেরির এই সহিংসতা তাতে নাটকীয় মাত্রা যোগ করেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে, উত্তর প্রদেশের লখনৌ, পাঞ্জাব রাজ্যেও। সহিংসতার পর গোটা লখিমপুর খেরিতে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। গাড়ি চাপা দিয়ে কৃষকদের হত্যার ঘটনায় পুলিশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রর ছেলে আশিস মিশ্রসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

এদিকে উত্তর প্রদেশে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ঘটনাস্থলে               গিয়ে নিহত কৃষকদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তাকে আটক করে পুলিশ। আটক করা হয় উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবকে। এছাড়া পাঞ্জাবে বিক্ষোভকালে আটক করা হয় রাজ্যের কংগ্রেস সভাপতি নভজ্যোত সিং সিধুকেও। পরে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। খবর :এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও বিবিসির।

উত্তর প্রদেশে যা ঘটেছে

রবিবার লখিমপুর খেরিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্র এবং রাজ্যের উপ মুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে সমবেত হয়েছিলেন কৃষকরা। সেখানেই মন্ত্রী অজয় মিশ্রর ছেলে আশিস মিশ্রর তিনটি গাড়ির বহর কৃষকদের চাপা দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের দাবি, আশিস মিশ্র তিনটি গাড়ির একটি চালাচ্ছিলেন। এ ঘটনার পর সহিংসতা শুরু হয়। সেখানে আরো চার জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক জন সাংবাদিক ও তিন জন বিজেপি কর্মী।

কৃষক ইউনিয়নগুলো জানিয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে কৃষকদের ওপর গাড়ি উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাতে চার জন কৃষক নিহত হয়েছেন। সংযুক্ত কৃষক মোর্চার নেতা তেজিন্দর ভিরকসহ আহত হয়েছেন সাত জন। কৃষক ইউনিয়নের দাবি, গত মাসে অজয় মিশ্র বলেছিলেন, ১০ থেকে ১৫ জন কৃষক আন্দোলন করছেন। তাদের সোজা পথে আনতে দুই মিনিট সময় লাগবে। মন্ত্রীর এই কথায় কৃষকরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। তাই তারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন।

তবে মন্ত্রী অজয় মিশ্র বলেছেন, কৃষকদের আক্রমণে একটি গাড়ি উলটে যায়। দুই জন কৃষক তার তলায় চাপা পড়ে মারা যান। এরপর চার জনকে কৃষকরা পিটিয়ে হত্যা করেছে। তার দাবি, তার ছেলে ঘটনাস্থলেই ছিলেন না। ঘটনাস্থলে থাকলে সে বেঁচে ফিরতে পারতেন না। মন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, কৃষকরাই লাঠি, তরোয়াল নিয়ে গাড়িতে আক্রমণ করে। পাথর মারে। গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় কৃষকরা। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহ পড়ে রয়েছে।

পুলিশের হাতে আটক প্রিয়াঙ্কা,

অখিলেশ ও সিধু

গাড়িচাপায় কৃষক নিহতের পর কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী লখিমপুর খিরিতে যেতে চেয়েছিলেন। সোমবার খুব ভোরে সড়কপথে লখিমপুর খেরির দিকে রওনা হলে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটকে দেয় রাজ্য পুলিশ। এ সময় পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কার উত্তপ্ত বাদানুবাদ হয়। প্রিয়াঙ্কা তাদের বলেন, আটকের আগে ওয়ারেন্ট দেখান। তিনি বারবার বলতে থাকেন, ওয়ারেন্ট না থাকলে একচুলও নড়বেন না। তিনি বলেন, যদি জোর করে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়, তা হলে আমি অপহরণের মামলা করব। এরপর ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। প্রিয়াঙ্কার পাশে দাঁড়ানো কংগ্রেস নেতা দীপিন্দর সিং হুরাকে ধাক্কা মারা হয়। তারপর প্রিয়াঙ্কাকে একটি সরকারি গেস্ট হাউজেও আটক রাখা হয়। সেখানে অনশনে বসেন প্রিয়াঙ্কা। পরে গতকালই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আনন্দবাজার পত্রিকার এক খবরে বলা হয়েছে, মুক্তি পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে যান কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।

এদিকে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী একটি ঘরের মেঝেতে ঝাড়ু দিচ্ছেন। বলা হচ্ছে, যে ঘরে তাকে পুলিশ রেখেছিল সেখানে ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করেছেন প্রিয়াঙ্কা।

লখিমপুর খেরিতে যেতে চাইলে আটক করা হয় উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবকে। এই ঘটনায় অশান্ত হয়ে ওঠে উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনৌ। অখিলেশের বাড়ির বাইরে পুলিশের একটি জিপে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। এছাড়া পাঞ্জাবে ধর্না থেকে আটক করা হয় রাজ্যের কংগ্রেস সভাপতি নভজ্যোত সিং সিধুকে। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী চরণজিত্ সিংহ চন্নি সোমবার হেলিকপ্টারে লখিমপুর খেরিতে যাওয়ার জন্য উত্তর প্রদেশ সরকারের অনুমতি চাইলেও তা দেওয়া হয়নি।

উত্তর প্রদেশে ‘কিলিং শাসন’ চলছে : মমতা

কৃষক হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি গতকাল বলেছেন, উত্তর প্রদেশে ‘কিলিং রাজ’ চলছে। লখিমপুর খেরিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। কাউকে সেখানে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।