তানভীর তারেক
এক সময় নতুন মুখের সন্ধানে নামে এফডিসিতে একটি রিয়েলিটি শো পরিচালিত হতো। কিন্তু প্রায় একযুগ ধরে এই উদ্যোগটি বন্ধ। গত কয়েকবছর ধরে এই রিয়েলিটি শো হবে হচ্ছে শোনা গেলেও তা আদতে কোনো কার্যকরী রূপে দাঁড়ায়নি। এদিকে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে গান, মডেলিং বা বিভিন্ন ক্যাটাগরির নতুন মুখের খোঁজ করলেও চলচ্চিত্রের জন্য নতুন মুখ খোঁজার কোনো প্রক্রিয়া নেই দীর্ঘদিন। বেশ ক’বছর আগে এনটিভি ও এফডিসি’র যৌথ উদ্যোগে নতুন মুখ খোঁজার প্রক্রিয়া চালু হলেও তা ঐ একটি অনুষ্ঠানের পর আর হতে দেখা যায়নি।
এ প্রসঙ্গে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর বলেন, ‘আমরা বিগত কয়েকবছর ধরেই চেষ্টা করছি। কিন্তু এত বড় ইভেন্টের জন্য সম্মিলিত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। বড় স্পন্সর প্রয়োজন। একঝাঁকে অনেকগুলো ছেলেমেয়ে কাজ শুরু করলে একটা প্রতিযোগিতার অবস্থান তৈরি হয়। আমি নিজেও এই প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়েই আজকের মিশা সওদাগর হয়েছি। একজন সত্যিকারের চলচ্চিত্রপ্রেমী শিল্পী তৈরির জন্য এ ধরনের প্লাটফর্মের কোনো বিকল্প নেই।’
তবে সাংগঠনিক এসব আক্ষেপের ভেতর দিয়েও গুণী নির্মাতা ও প্রযোজকের হাত ধরে বেশ ক’জন চলচ্চিত্রের উঠতি তারকা সিনেমায় এসেছেন এবং নিয়মিত হয়েছেন। এর ভেতরে চলচ্চিত্রে এসেই একাধিক ছবিতে সাইন করেছেন দীঘি। শিশুশিল্পী হিসেবে নিয়মিত কাজ করলেও মাঝে বিরতি দিয়ে নায়িকা হয়ে ফিরেছেন তিনি। চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থান প্রসঙ্গে দীঘি বলেন, ‘একটি রিয়েলিটি প্লাটফর্ম হলে নিজেদের প্রজন্মের একদল বন্ধু পাওয়া যায়। সেটা খুব কাজে লাগে। কিন্তু সেই সুযোগ যেহেতু পাইনি। তাই আমরা বিচ্ছিন্নভাবেই ফিল্মের প্রতি নিজস্ব টান থেকে কাজ করছি এবং করে যাবো।’
অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ অবশ্য কমার্শিয়াল ফ্যান্টাসি ছবির কাজ করতে আগ্রহী নন। তবে গল্পনির্ভর ছবিতে কাজ করতে চান বলে জানান। নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর চলচ্চিত্রের কাজের পর থেকে একাধিক নির্মাতা তাসনিয়া ফারিণের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
প্রথম ছবিতেই গিয়াস উদ্দিন সেলিমের হাত ধরে দর্শক চোখ মুগ্ধ করেন নবাগত অভিনেতা ইয়াশ। স্বপ্নজাল ছবিতে তার অনবদ্য অভিনয় মুগ্ধ করে অনেককেই। একাধিক চলচ্চিত্রের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শাপলা মিডিয়ার ঘরের ছেলে হিসেবেই একাধিক ছবি নিয়ে চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার সুপ্রতিষ্ঠিত করছেন শান্ত। শান্ত বলেন, ‘বাবার সহযোগিতা তো আমার আশীর্বাদ। তবে নিজের অভিনয় যোগ্যতা না থাকলে যে টিকে থাকতে পারবো না, সেটিই হলো সবচেয়ে মূল বিষয়। তাই আমরা এই সময়ে যারা চলচ্চিত্রে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখছি তারা ভীষণ আত্মপ্রত্যয়ী হয়েই কাজ করছি।’
তাই বিচ্ছিন্নভাবে নতুন তারকারা আসছেন এবং চলচ্চিত্রকে ভালোবেসেই কাজ করছেন। এ প্রসঙ্গে পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান বলেন, ‘নতুন মুখের সন্ধানে প্রতিযোগিতা শুধু নায়ক-নায়িকাই তো তৈরি করেন না, পার্শ্ব-অভিনেত্রী, খল চরিত্রের শিল্পীও তৈরি করে। আমাদের এসব জায়গাতেও সংকট রয়েছে। অনেককিছু শিখতে পারে তারা। আজ এই যে জেনারেশন গ্যাপ, এর মূল কারণ এ ধরনের উদ্যোগ না নেওয়া।’
এদিকে জাজ মাল্টিমিডিয়ার হাত ধরে এসেছে রোশান। একাধিক বিগবাজেটের ছবি করেছেন তিনি। রোশান বলেন, ‘আমরা যারা এই সময়ে চলচ্চিত্রে এসেছি, তারা অর্থেও জন্য নয়। বরং নিজের প্যাশন থেকে, চলচ্চিত্রকে ভালোবেসে কাজ করার জন্যই এসেছি।’
একেবারেই ফিল্মের প্রতি নিজস্ব ভালোবাসা থেকেই চলচ্চিত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছেন অধরা খান। অধরা বলেন, ‘অবশ্যই নতুনদের একটি প্লাটফর্ম থাকলে তা আমাদের জন্য কাজে লাগে। তবুও এত এত প্রতিবন্ধকতার পরও আমি বলবো আমি চলচ্চিত্রের এই সময়কে নিয়ে ভীষণ আশাবাদী।’
