সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করার অধিকার সব গণতান্ত্রিক দলের রয়েছে। তবে কেউ সংঘাত সৃষ্টি করতে চাইলে তার সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। আন্দোলনের নামে যদি সহিংসতা হয় এবং জনগণের জানমালের জন্য হুমকি সৃষ্টি করা হয় তাহলে আওয়ামী লীগ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিরোধ করবে এবং সমুচিত জবাব দেবে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের আমিনবাজার এলাকায় আমিনবাজার, সালেহপুর ও নয়ারহাট নামক স্থানে তিনটি সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশে জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় বাংলাদেশে ঠিক সেভাবেই নির্বাচন হবে। ইলেকশন কমিশন নিয়ে সংশয় থাকার কোনো কারণ নেই। রাষ্ট্রপতি সবাইকে নিয়েই একটা সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। দেশের নির্বাচন কমিশন যদি নিরপেক্ষ হয় তাহলে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। কারণ নির্বাচনের সময় যেসব বিষয় নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত প্রশাসন এবং পুলিশ থেকে শুরু করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সব কিছু কিন্তু নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকে। কাজেই নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, বাজে ভাষা বিএনপির মুখেই শোভা পায়, কারণ ২০১৩, ২০১৪ সালে আন্দোলনের নামে আগুন সন্ত্রাস করেছে। বিএনপি পুড়িয়ে মানুষ মেরেছে, বাসে অগ্নিসংযোগ করেছে, রেলের লাইন পুড়িয়েছে, এমনকি তারা ভূমি অফিস পুড়িয়েছে, যেখানে অনেক ভূমি অফিসের বহু বছরের রেকর্ড নষ্ট হয়েছে। তারা আসলেই আন্দোলনের নামে সহিংসতা করতে চায়। তাদের প্রতিহত করতে আমরাও প্রস্তুত রয়েছি।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে। নির্বাচনে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। আমাদের সংবিধানে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বের বিষয়ে বলা আছে। নির্বাচন কমিশনের অধীনে প্রশাসনিক এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এমনকি সেনা বাহিনীর টাস্কফোর্সও দায়িত্ব পালন করে থাকে। সেটা সরকারের অধীনে থাকে না। হোম মিনিস্ট্রি তখন চলে যায় নির্বাচন কমিশনের অধীনে। নির্বাচন করার জন্য যেটা দরকার, যে যে সংস্থা দরকার সবাই তখন নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলে যায়। কাজেই এখানে কারো ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে সাভারের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
