বরগুনার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা নাদিরা সবুরের বাসার দিকে তাক করে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমপি নাদিরা সবুরের পরিবারের দাবি, বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন নজরদারি রাখতে নাদিরা সবুরের বাসার দিকে তাক করে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছেন।
এ ঘটনায় নাদিরা সবুরের ম্যানেজার সেলিম খলিফা গত সোমবার বাদী হয়ে থানায় একটি জিডি করেন। জিডি নম্বর ১৭৬।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাথরঘাটা ডিগ্রি কলেজের প্রধান গেটের উত্তর দিকের বিদ্যুতের খুঁটিতে সাদা একটি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ঐ ক্যামেরার সামনে সড়কের দক্ষিণ দিকে এমপি নাদিরার বাড়ি। এমপি নাদিরার স্বামী প্রয়াত এমপি গোলাম সবুর টুলু ২০০২ সালে এ বাড়িটি নির্মাণ করেন। অন্যদিকে শওকত হাচানুর রহমান রিমন কলেজের বিপরীতে দুলাল কোম্পানির মালিকানাধীন একটি ভবনের তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকেন। রিমনের ভাড়া বাসা থেকে এমপি নাদিরার বাসভবনের দূরত্ব মাত্র ৫০ ফুট।
নাদিরা টুলুর বড় মেয়ে ফারজানা সবুর রুমকি জানান, সম্প্রতি এ সিসি ক্যামেরাটি তাদের নজরে আসে। এরপর খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, এটি পৌরসভা বা পুলিশের কেউ স্থাপন করেনি। তবে তাদের ধারণা, তাদের বাসায় নজরদারির জন্য ক্যামেরাটি বরগুনা-২ আসনের এমপি রিমন স্থাপন করেছেন। তিনি আরো বলেন, আমাদের বাসায় কারা আসা যাওয়া করে, তা নজরদারি করার জন্যই এমপি রিমন এ ক্যামেরাটি স্থাপন করেছেন। আমরা এ ঘটনায় বিব্রত।
এমপি নাদিরা সবুর বলেন, আমার বাসায় নজরদারির জন্য কেউ গোপনে ক্যামেরা বসাবে এটা আমার জন্য বিব্রতকর। আমার ব্যক্তিগত অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।
আইনজীবী জাবির হোসেন বলেন, বাংলাদেশ সংবিধানের ৪৩ ধারা অনুযায়ী ব্যক্তির গোপনীয়তার অধিকার মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে বিবেচিত। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের ১২ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, একজন ব্যক্তি কখনোই অন্য ব্যক্তির গোপনীয়তা, পারিবারিক বিষয়, বাসস্থান বা যোগাযোগে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
পাথরঘাটা কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষ এ রকম কোনো ক্যামেরা স্থাপন করেনি। পাথরঘাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হোসেন আকন জানান, পৌর কর্তৃপক্ষ ঐ ক্যামেরাটি স্থাপন করেনি। কে বা কারা করেছে, তা তাদের জানা নেই। পাথরঘাটা থানার ওসি আবুল বাশার বলেন, ঐ ক্যামেরাটি পুলিশ স্থাপন করেনি। বিষয়টি আমরা খোঁজ নিয়ে দেখব।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন বলেন, আমার বাসার সামনে রাস্তার দুই দিকে দুটি সিসি ক্যামেরা বসিয়েছি। কারো বাসার দিকে আমি ক্যামেরা বসাইনি। আমি নিজের নিরাপত্তার জন্য রাস্তা মনিটর করতে ঐ দুটি ক্যামেরা দিয়েছি। সংসদ সদস্য নাদিরা সবুরের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা স্রেফ তাদের মনের ভ্রান্তি। আমার সঙ্গে গায়ে পড়ে ঝগড়া বাধানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে, এমপি রিমনের বিরুদ্ধে সালিশি বৈঠকে নারীর মাথায় বিষ্ঠা দেওয়া, ঠিকাদারকে মারধর, গাড়ি সাইড না দেওয়ার মত্স্য ব্যবসায়ীকে হাজারো মানুষের সামনে চড়থাপ্পড়সহ নানা অভিযোগ রয়েছে।
