ফুল ফুটুক না ফুটুক আজি বসন্ত। প্রতিবছর বসন্তের সমাগমে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের এ উক্তিটি সবার হূদয়ে সাড়া তুলে।
বসন্ত নিয়ে অন্যরকম অনুভূতি হয়, বসন্তকে রাঙ্গাতে কিশোর-কিশোরীরা হলুদ শাড়ি পরে, ছেলেরা পাঞ্জাবি পরে, বিভিন্ন পার্কগুলোতে দেখা
মিলে যুগল ও কাপলদেরকে। বসন্তকে কিভাবে বরণ করতে চাই, বসন্ত আসলে তরুণ-তরুণী কিভাবে নতুন রঙে সাজে, বসন্তের
অনুভূতির কথা জানতে দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অনুভূতির কথা জানাচ্ছেন— আমজাদ হোসেন ফাহীম
আফিয়া ইসলাম রিফা
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
শীতের রুক্ষতার পর দক্ষিণা দুয়ার খুলে কোকিলের কুহুকুহু কলরব নিয়ে হাজির হয়েছে বসন্ত আমাদের সবার মাঝে। ছোটবেলা থেকেই বসন্তের প্রতি কেন যেনো এক আকুল টান অনুভব করি। বসন্ত ঋতু যেনো প্রাণে জাগায় এক পূর্ণতা, ভালোলাগার ছোঁয়া। বসন্ত শুধু আমার কাছে একটা ঋতুই নয় ভালোবাসার প্রতীক। বসন্তের বাসন্তী রঙে মানুষকে ভালোবাসতে চাই, বসন্তকে বরণ করে নিতে চাই।
নাবিহা তাসনীম বৃষ্টি
বিইউপি, ইএমবিএ
আমি তখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ি, একদিন আমাদের শ্রেণিশিক্ষিকা আমাদের প্রত্যেকের পছন্দের ঋতু সম্পর্কে জানতে চাইল, বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় ঋতু হিসেবে শীতকাল ও বর্ষাকালের কথাই বলল, কিন্তু আমি ও আমার এক বান্ধবী শুধু বসন্তের কথাই বললাম। প্রায় পঞ্চাশ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেবল আমারা দুইজনই প্রিয় ঋতু হিসেবে বসন্তের কথাই বললাম। সেদিন মনে মনে অনেক অবাক হয়েছিলাম বসন্ত আসলেই চোখে ভেসে ওঠে, আমার কার্ণিশের গাছগুলোর নতুন কুশি, ফুটন্ত ফুলগুলোর সৌন্দর্য, পড়ার টেবিলে বসে, পাশের জানালা দিয়ে আসা দক্ষিণা বাতাস উপভোগ করা, কখনও জানালা থেকে, কখনও বারান্দায় আবার কখনো বা ছাদে গিয়ে কাছের ও দূরের নতুন পাতায় সজ্জিত গাছগুলোকে দেখা এবং কোকিলের ডাক শোনা, বসন্তের এই রূপ অবলোকন করার জন্যেই যেন, সারা বছর আমার অপেক্ষা।
মোঃ রাকিব হোসেন
৪র্থ বর্ষ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
ফাল্গুনের প্রথম দিনে অসংখ্য রমণী বাসন্তী রঙে রাঙিয়ে তুলে। প্রেমিক-প্রেমিকার মনে নতুন প্রেম জেগে ওঠে। বাসন্তী শাড়ি আর হলুদ রঙের পাঞ্জাবি পরে পূর্বের সব অভিমান ভুলে নতুন করে স্বপ্ন সাজায়। বসন্তের আগমনে শৈশবের বেশ কিছু স্মৃতি মনে পড়ে যায়। সারাদিন কাটত কোকিলকে অনুসরণ করে। আর ২১ ফেব্রুয়ারির রাতে ফুল চুরি করে নিজেকে বীর মনে করতাম। শৈশব হারিয়ে গেছে কিন্তু বসন্ত আসে তার আগের রূপ নিয়েই। শীতের পরে বসন্তের আগমন যেমন ভরিয়ে দেয় প্রকৃতিকে তেমনি প্রতিটি মানুষের হতাশাগুলোকে দূর করে সফলতা বয়ে আনুক এই বসন্ত। এটাই আমার প্রত্যাশা।
সানজিদা ইয়াসমিন শুভ্রা
২য় বর্ষ, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট
আমার কাছে বসন্ত মানেই নতুন একটা জীবন। আমি যদি কোনোভাবে ভুলেও যাই ব্যাপারটা, কিন্তু প্রকৃতি কিন্তু ভুল করে না জানান দিতে! ছেলেবেলায় ঋতুর এত পার্থক্য করতে পারতাম না। খেয়াল করতাম না, কখন শীত কিংবা বসন্ত। কিন্তু বসন্ত এলে প্রকৃতির যে নতুন আচরণ। গাছে গাছে নতুন পাতায়, চারিদিকে যেন একটা সবুজ রং ধারণ করতো। বাতাসের স্নিগ্ধতা মনে এক নতুন আবেশ তৈরি করতো। বসন্তকে বরণ করতে সবাই এখন অনেক আয়োজন করে। কেউ কেউ, কোনো রকম অনুষ্ঠান না করেও কখনো হলুদ, কখনো বাসন্তী রঙের পোশাক পরে কত সাবলীলভাবে বসন্তকে বরণ করে নিচ্ছে।
আফিয়া ইবনাত
ব্যবস্থাপনা বিভাগ
তিতুমীর কলেজ
মিষ্টি হিমেল হাওয়া, হাজার রঙের সংমিশ্রিত ক্যানভাস নিয়ে এল বসন্ত। শীতের সাদা কুয়াশা আজ গ্রীষ্মের হলদে সূর্যের সাথে দেখা করবে বলে লোকালয়ে বেশ ভীড়। প্রতি বছরের মতো এবারও কাচা হলুদ গায়ে মেখে বসন্ত এসেছে। নতুন ফুল, নতুন পাতা, নতুন আশা আর স্বপ্নের উত্সর্গ হয়ে এল বসন্ত। ইট আর কনক্রিটের এ শহরে অল্প সময়ের জন্য হলেও বসন্তের ছোয়ায় সংমিশ্রিত রঙের দেখা মেলে। পার্কে বা উদ্যানে চুলের খোপায়, গাছের ডগায়, হাতের ছোয়ায়, কানের বালায় রঙীন ফুলেরা সাজে।
তাজিজুল ইসলাম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ৩য় বর্ষ
যখন ক্যাম্পাসে কিংবা পথে পথে দেখি মেয়েরা লাল পারের হলদে শাড়ি পরা আর মাথায় ফুলের মালা, ছেলেদের পরনে পাঞ্জাবি-পাজামা, যখন দেখি তাদের উত্সব-উল্লাস, চারিদিকে বসন্তকে বরণ করে নেওয়ার সে কি আয়োজন! নাচ-গান এবং আরো কত কি! তখন আবারো শিহরিত হই। বসন্ত যে উত্সবের ডালি নিয়ে হাজির হয় তা দেখে হই চমত্কৃত। তবে বারবার আসুক এ বসন্ত। প্রকৃতির মতো মানবহূদয়কেও ধুয়ে-মুছে পবিত্র করুক। নিজের মতো পবিত্র করুক এ ধরণী মা কে...।
মডেল: শাহরুখ, তামান্না, রিপন, মাসুমা, রবিন
ছবি: আসিফ
