যা ভাবছে তরুণরা

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৩০

 

এখন ফেব্রুয়ারি মাস। চলছে প্রাণের বইমেলা।

মেলায় পাঠক-লেখকদের সমাগম যেন অন্যরকম প্রাণের

সঞ্চার করেছে। পুরো মাস জুড়েই চলবে আমাদের এই প্রাণের বইমেলা। বইমেলা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনার কথা

জানাচ্ছেন— এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

পৃথিবীতে যত রকমের জিনিস থাকতে পারে তারমধ্যে সবচেয়ে সুন্দরগুলোর একটি হলো বইয়ের মেলা। অন্যদিকে আমাদের বই মেলার রয়েছে আলাদা একটা ইতিহাস। শুধু আমরাই ভাষার জন্য জীবন দেওয়ার নজির দেখিয়েছি। যার ফলশ্রুতিতে ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা। আর সেই ভাষা শহীদদের স্মরণ করেই প্রতি বছর আমরা আয়োজন করছি অমর একুশে গ্রন্থ মেলার। চোখ বন্ধ করেই আমরা বলে দিতে পারি যতদিন বাঙালি জাতি থাকবে, বাংলা ভাষা থাকবে, বাংলাদেশ থাকবে ততদিন নতুন বাংলা বই থাকবে, বইয়ের ঘ্রাণ থাকবে, আমাদের বই মেলা থাকবে।

—রাজিব দেবনাথ

অর্থনীতি বিভাগ

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রতিটি দেশের বইমেলা সে দেশের ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ইত্যাদির পরিচায়ক হিসেবে বিশ্বের দরবারে দেশটিকে প্রোমট করে থাকে। ভাষার প্রতি এই টান আমাদের দিয়েছে কবিতা, গল্প, উপন্যাস, গান, নাটক ইত্যাদি রচনা থেকে ভালোবাসার বইয়ের পাতায়। এ ভালোবাসার দ্যুতি এমন ভাবে ছড়িয়েছে যে, বইমেলা পেয়েছে অগণন ভক্ত দর্শক! দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে বইয়ের প্রেম। শিশু বর্ণমালা, শিশুছড়া, কিশোর গল্প-উপন্যাস, জোকস্, কবিতা, প্রবন্ধ, সায়েন্স ফিকশন, রান্না-বান্না, পরিণত লেখা, চিকিত্সা, বিজ্ঞান, গবেষণা ইত্যাদি কী পাইনি আমরা এ বইমেলা থেকে! বইমেলা আমাদের জ্ঞানের চোখকে করে দিয়েছে প্রসারিত।

—তামান্না ফেরদাউস

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

যেসব নতুন বই মেলায় আসছে সেগুলোর অধিকাংশই গতানুগতিক, নেই তেমন কোনো নতুনত্ব, সৃজনশীলতা, আর বিশ্লেষণধর্মী কল্পনাশক্তি বৃদ্ধির কিছু। বই পড়ার অভ্যাস বৃদ্ধিতে লেখকগণ বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে।  বই হলো এমন একটি জিনিস যেটি পড়ার সময় মস্তিষ্কের মধ্যে থাকা হাজারো নিউরণ বেশি বেশি কাজ করে। যার ফলে মস্তিষ্কের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে যেসব কবি, সাহিত্যিক, লেখক রয়েছেন তাদের কাছে আমাদের চাহিদা থাকবে, বই যেন হয় তথ্য নির্ভর, বাস্তব ভিত্তিক এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। যেটি পড়লে ব্রেন ডিজিজে আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। আমাদের বাংলায় লেখা বই ছড়িয়ে যাক দেশ থেকে দেশান্তরে। অনুবাদ হোক শত শত ভাষায়।

—এম মেছবাহ উদ্দীন

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ

সরকারি বি.এল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, খুলনা।

বই মেলার মাধ্যমেই আমরা আমাদের প্রাণের ভাষা, বাংলা ভাষাকে পৃথিবীর বুকে সম্মানের সঙ্গে, মর্যাদার সঙ্গে তুলে ধরতে পারি। পারি রক্তে ভেজা এই ভাষাকে তার সবটুকু সম্মান দিতে। বাংলা ভাষা ও বাংলা কবিতাকে আরও সুন্দর-সমৃদ্ধ করার জন্য তরুণ লেখক, কবি-সাহিত্যিকদের বেশি করে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। ভালো বই লিখতে হবে। পড়তে হবে। বই মানুষের খুব ভালো আর প্রকৃত বন্ধু। একটি মানসম্পন্ন, জ্ঞান সমৃদ্ধ পূর্ণ সুন্দর বইয়ের জন্য লেখক ও প্রকাশক উভয়েরই ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। লেখকদের উত্সাহিত না করলে একটি ভালোমানের বই যেমন পাওয়া যায় না, তেমনই প্রকাশকগণ মুনাফার মুখ না দেখলে তারা বই প্রকাশেও আগ্রহী হবেন না।

—সুমাইয়া রিমা

ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।