মুহিউদ্দিন নুর
ঠাকুরগাঁও-এর রিকশাচালক বাবার সন্তান আব্দুর রাজ্জাক এবার ভর্তির সুযোগ পেয়েছে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার আগে তার রিকশাচালক বাবা তাকে পরীক্ষা দিতে নিষেধ করেছিলেন, কারণ তিনি জানতেন তার ছেলে মেধাবী। সে চান্স পেলেও তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানো ও পড়ানোর সাধ্য তার নেই। নিজের ও বাবার কষ্টের উপার্জন দিয়ে আব্দুর রাজ্জাক এ পর্যন্ত এসেছে। কখনো হার মানেনি সে।
যথারীতি হাবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষায় জি ইউনিটের একটি শিফটে প্রথম স্থান অর্জন করেছে সে। ভর্তিতে টিকে গেল। কিন্তু এর পরেই ভর্তির ১৩ হাজার টাকার চিন্তা শুরু হয় তার। এক সময় মনে হয় ভর্তিই হতে পারবে না। ঠিক এ সময় রাজ্জাকের পাশে দাঁড়ায় হাবিপ্রবিতে সদ্য পথচলা শুরু করা সংগঠন ‘হাসিমুখ’। ভর্তির দুদিন আগেই তারা আব্দুর রাজ্জাকসহ তার মতো ৮ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর ভর্তির ব্যবস্থা করে। এর মধ্যে ৫ জনকে তাদের ভর্তির পুরো টাকা এবং বাকিদের বিভিন্ন পরিমাণে সাহায্য করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা শাখার পরিচালকের মাধ্যমে এ টাকা আর্থিকভাবে অসচ্ছল মেধাবীদের হাতে তুলে দেয়া হয়।
হাসিমুখে’র হাবিপ্রবি শাখার অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ হাসান বলেন, এনামুল হকসহ ৬ জনের হাত ধরে এ সংগঠনের যাত্রা শুরু। তাদের সাথে পরিচয়ের পর আমরাও এ ব্যাপারে আগ্রহ দেখাই। এখন ১৫ জন মিলে এ কাজ শুরু করি। ‘মেধাবীরা হাসলে, হাসবে বাংলাদেশ’— এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সম্ভাবনাময় দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করাই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য।
