ইত্তেফাক রিপোর্ট
কৃষিপণ্যের আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ার উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর সংস্কার এবং এ খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চালু হলো ‘বাংলাদেশ ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন প্রকল্প’। প্রকল্পটি বাংলাদেশকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন এগ্রিমেন্ট বাস্তবায়নে সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্যের বিশ্ব বাজারে প্রবেশে এবং আমদানি ব্যয় ও সময় কমাতে সহায়তা করবে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে।
গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার, বাণিজ্য সচিব তপন কুমার ঘোষ এবং এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আবুল কাসেম খান, বাংলাদেশ ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মিকায়েল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশি কৃষিপণ্যের শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করতে সরকার এ খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। কৃষিপণ্যের বাণিজ্য পদ্ধতির আইনি ও কাঠামোগত সংস্কার, পণ্যের গুণমান নিশ্চিতকরণের জন্য পরীক্ষা পদ্ধতির উন্নয়ন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত পণ্য সংরক্ষণে অবকাঠামো তৈরি ও উন্নয়নে বাংলাদেশ ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন প্রজেক্ট সহায়ক হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বিশ্ব বাণিজ্যে বাংলাদেশি কৃষিপণ্যের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হবে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে ব্যবসাবান্ধব বাণিজ্য পরিবেশ সৃষ্টি এবং বাংলাদেশি পণ্যের আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে আইনি কাঠামো ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার নিশ্চয়তা দেন। তিনি বিশেষভাবে পচনশীল পণ্যের আমদানি-রপ্তানি সহায়ক অবকাঠামো সৃষ্টির লক্ষ্যে এ দেশের বন্দরগুলোতে নতুন কোল্ড স্টোরেজ (হিমাগার) অবকাঠামোয় বিনিয়োগ সহজ করার ক্ষেত্রে এ প্রকল্পের সহায়তার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন প্রকল্প একটি পাঁচ বছর মেয়াদি কারিগরি ও প্রযুক্তি হস্তান্তর উদ্যোগ। প্রায় ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২২৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন এগ্রিমেন্ট বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।
