১২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৩২

দেশব্যাপী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ চলছে। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে আবেদনের কার্যক্রম। জানুয়ারি, ২০১৯ খ্রি. নিয়োগ সংক্রান্ত লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণবশত পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করে ১৫মার্চ নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে, বিভিন্ন ধাপে দেশে প্রায় ৫০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার স্বপ্ন অনেকেরই। উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের আবেদনের সুযোগ থাকায় নারী প্রার্থীদেরও আগ্রহের কমতি নেই। অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষার চেয়ে এ পরীক্ষায় প্রতিযোগিতা একটু বেশিই। এখন এ পরীক্ষা হয় ডিজিটাল পদ্ধতিতে। তাই স্বপ্ন যাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার, আর দেরি না করে এখনই প্রস্তুতি নিন। প্রাথমিক শিক্ষক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন মাহবুব শরীফ

পরীক্ষা পদ্ধতি

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক এবং প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ৮০ নম্বরের লিখিত এবং ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষাসহ মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। লিখিত পরীক্ষা হয় বহু নির্বাচনী বা এমসিকিউ পদ্ধতিতে। প্রশ্ন করা হয় বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং সাধারণ জ্ঞান—এই চারটি বিষয়ে। প্রতিটি বিষয় থেকে ২০টি করে মোট ৮০টি এমসিকিউ প্রশ্ন থাকে। প্রতিটি প্রশ্নের মান থাকে ১।

নেগেটিভ মার্কিং

মানবণ্টন ঠিক রেখে এখন থেকে এ পরীক্ষায় থাকতে পারে নেগেটিভ মার্কিং পদ্ধতি। একটি ভুল উত্তরের জন্য কাটা যাবে ০.২৫ নম্বর। ফলে চারটি প্রশ্নের ভুল উত্তর দিলে ১ নম্বর কাটা যাবে। তাই নিশ্চিত না হয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়া ঠিক হবে না। অনেক সময় সঠিক উত্তর জানা থাকলেও অনেকে বৃত্ত ভরাটের সময় অসবধানতাবশত ভুল উত্তর দাগিয়ে ফেলেন। একটু সতর্ক হলেই এ ভুল এড়ানো সম্ভব।

এমসিকিউ প্রশ্নের জন্য বরাদ্দ থাকবে ৮০ মিনিট। অর্থাত্ প্রতিটি প্রশ্নে পাওয়া যাবে এক মিনিট। যে প্রশ্নগুলো সহজেই উত্তর করা যায়, তা শুরুতেই দাগিয়ে ফেলতে হবে। কোনো প্রশ্নে বেশি সময় নষ্ট করা যাবে না, কঠিন প্রশ্নগুলো রেখে দিতে হবে পরে উত্তর করার জন্য। অনুমাননির্ভর উত্তরের চেয়ে না দাগানোই ভালো। জানা প্রশ্নেও অনেকে কোনটির উত্তর করবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। প্রথমবার যেটি সঠিক বলে মনে হয়, উত্তর সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা সেটির বেশি! বিগত বছরগুলোর প্রশ্ন সমাধান করলে কাজে দেবে।

বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণে ভয় নয়

উল্লেখযোগ্য কবি-সাহিত্যিকদের জীবন ও সাহিত্যকর্ম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে হবে। গল্প, কবিতা বা উপন্যাসের রচয়িতা থেকে প্রশ্ন বেশি আসে। ব্যাকরণ অংশে শব্দ, পদ, কারক-বিভক্তি, প্রকৃতি-প্রত্যয়, সন্ধি, সমাস, শুদ্ধ বানান পড়তে হবে। পারিভাষিক শব্দ, বিপরীত শব্দ, বাগধারা, এককথায় প্রকাশ থেকেও প্রশ্ন আসতে পারে। সন্ধি, সমাস, কারক থেকে প্রতি বছরই প্রশ্ন থাকে, এসব প্রশ্ন একপলক দেখামাত্রই যেন উত্তর করা যায় সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে হবে। এজন্য বোর্ড প্রণীত নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বইয়ের সব অধ্যায়ের পাঠ এবং উদাহরণ শিখতে পারলে ভালো হয়।

ইংরেজি গ্রামারে প্রাধান্য

বেসিক গ্রামার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। পড়তে হবে Preposition, Antonym, Synonym, Parts of Speech, Tense, Spelling, Right forms of verb, Transformation, Voice, Narration। সাধারণত Spelling, Right forms of verb, Antonym, Synonym থেকে প্রশ্ন বেশি আসে। চারটি Preposition থেকে শূন্যস্থানে কোনটি বসবে, গ্রামারের বিচারে কোন বাক্যটি শুদ্ধ, কোনটি সঠিক Indirect Speech—এ ধরনের প্রশ্ন প্রায়ই আসে। অনুশীলনের জন্য প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ গাইড, প্রফেসরস জব সল্যুশন এবং ভালো মানের গ্রামার বই পড়তে পারেন। আর খাতায় গুরুত্বপূর্ণ শব্দ লিখে চর্চা করলে কাজে লাগবে।

গণিতেও চাই অধিক চর্চা

গণিতের সমাধান বের করতে অনেকে বেশি সময় নিয়ে ফেলেন। এ ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে। পুরোনো পাঠ্যক্রমের ষষ্ঠ থেকে অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির গণিত বই অনুসরণ করতে হবে। দেখে যেতে পারেন এইচএসসি পর্যায়ের বইও। সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর নেওয়া যাবে না। সাধারণ ক্যালকুলেটর নেওয়া গেলেও সময় স্বল্পতার কারণে সবসময় ব্যবহার করতে যাওয়াটা বোকামি। গণিতের প্রস্তুতি এমনভাবে নিতে হবে যেন মুখে মুখেই অঙ্কের বেশিরভাগ সমাধান করে নেওয়া যায়, বারবার চর্চা করলেই এটা সম্ভব। সুদ-কষা, ঐকিক নিয়ম, লাভ-ক্ষতি, ভগ্নাংশ, ধারাপাত এবং বীজগণিতের প্রথম পর্যায়ের কিছু অঙ্ক থেকে প্রশ্ন আসতে পারে। অনেক সময় দশমিকের গুণ, ভাগ থাকে। জ্যামিতির সাধারণ সূত্র ও সংজ্ঞা থেকেও প্রশ্ন আসে।

সাধারণ জ্ঞানেও অবহেলা নয়

বাংলাদেশের স্বাধীনতা, অভ্যুদয়ের ইতিহাস, জাতীয় বিষয়াবলী থেকে প্রশ্ন আসে। আন্তর্জাতিক অংশে দক্ষিণ এশিয়া এবং এশিয়া সম্পর্কিত প্রশ্ন বেশি দেখা যায়। খেলাধুলা, আন্তর্জাতিক সংস্থা, পুরস্কার, দিবস ইত্যাদি থেকে প্রশ্ন আসে। সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট প্রশ্ন যেমন বিভিন্ন আবিষ্কার, রোগব্যাধি, বিভিন্ন খাদ্যগুণ, কম্পিউটার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি থেকে প্রশ্ন আসতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে প্রশ্ন বেশি থাকে। বিশেষত এক বছরের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশ্বে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য পড়তে হবে সাধারণ জ্ঞান বিষয়ক মাসিক কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স, নলেজ ভিউ বা কারেন্ট ওয়ার্ল্ড এবং নিয়মিত চোখ রাখতে হবে দৈনিক সংবাদপত্রে।

মৌখিক পরীক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদেরই শুধুমাত্র মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয়। মৌখিক পরীক্ষায় থাকে ২০ নম্বর। একাডেমিক ফলাফল বা শিক্ষাগত যোগ্যতার ওপর থাকবে ৫ নম্বর। এক্সট্রা কারিকুলামের (নাচ, গান, অভিনয়, আবৃত্তি) ওপর বরাদ্দ থাকে ৫ নম্বর। বাকি ১০ নম্বর থাকে সাধারণ জ্ঞানের ওপর। মৌখিক পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞানের জন্য প্রার্থীর নিজ জেলার থানা বা উপজেলার আয়তন, জনসংখ্যা, সংস্কৃতি, জেলার ইতিহাস, রাজনীতি ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা থাকলে ভালো করা যায়।

পরীক্ষা এখন ডিজিটাল

বিগত বছরগুলোতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগে বাতিল হয়েছিল কয়েকটি জেলার লিখিত পরীক্ষা। তাই সনাতন পদ্ধতি বাদ দিয়ে এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিয়োগ পরীক্ষা নিচ্ছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রশ্নব্যাংক থেকে বাছাই করে তৈরি করা হয় ৮০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের ৯ সেট প্রশ্ন। প্রতিটি সেটে প্রশ্নের ক্রমিক নম্বর ভিন্ন হয়। পরীক্ষার দিন সকালে ইমেইলের মাধ্যমে প্রতিটি জেলায় প্রশ্ন পাঠানো হয়।

লক্ষ্য রাখবেন যা

আবেদনপত্রটি ঠিকমতো পূরণ করুন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করুন। প্রাপকের ঠিকানা নির্ভুলভাবে লিখুন। পরীক্ষার হলে প্রবেশপত্র সঙ্গে রাখুন। সেট কোড ঠিকমতো পূরণ করুন। চাহিদার চেয়ে একটু বেশিই প্রস্তুতি নিন।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়মিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইট (www.dpe.gov.bd) ভিজিট করতে পারেন।