মো. আমিরুজ্জামান
নীলফামারীর সৈয়দপুরে কাঁঠাল পাতার বিশাল বাজার গড়ে উঠেছে। এই কাঁঠাল পাতা বিক্রি করে সংসার চলছে প্রায় ১৫ জন নারী ও তাঁর পরিবারের। বাঙালি-বিহারীর এই শহরে পাতার ব্যাপক চাহিদার কারণে জীবন-জীবিকায় জড়িয়ে পড়েছেন তাঁরা। ফলে বিকাল থেকে রাত অবধি কাঁঠাল পাতার আঁটি বিক্রির ব্যবসা জমে উঠেছে। শহরের ২নং রেল ঘুণ্টি এলাকায় কাঁঠাল পাতা নিয়ে বসেন প্রায় ষাটোর্ধ্ব রেনু। বাড়ি নীলফামারীর ডোমার সীমান্ত এলাকা চিলাহাটিতে। স্বাধীনতার পর থেকে সৈয়দপুর শহরে কাঁঠালের পাতা বিক্রি করে চলেছেন। প্রতিদিন স্বামী খামাকে সঙ্গে নিয়ে ট্রেনে করে পাতা নিয়ে আসেন সৈয়দপুরে। তারপর আঁটি বেঁধে বিক্রি করে শেষ ট্রেনে বাড়ি ফিরে যান। প্রতিদিন তার পাতা বিক্রি হয় প্রায় ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা। এই আয়ে বুড়ো-বুড়ি ও এক ছেলে নিয়ে সংসার ভালোই চলছে বলে জানালেন।
একই জায়গায় কাঁঠালের পাতা নিয়ে বসেন রাবেয়া। প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে দিনাজপুরের পাকেরহাটের জমিদারপাড়ায় তার বাড়ি। দীর্ঘ পথ ভ্যান ও রিকশায় পাতা নিয়ে এসে এই শহরে বিক্রি করেন। তিনি জানান, এলাকায় প্রতিটি কাঁঠাল গাছ পাতার জন্য ৩শ’ থেকে ৯শ’ টাকায় কিনে থাকেন। পাতা কাটার জন্য মজুরি দিতে হয় ৩শ’ টাকা। পাতা আনার পর আঁটি করে ৫ ও ১০ টাকায় বিক্রি করে তার লাভ হয় ৩শ’ থেকে ৫শ’ টাকা।
শহরের ১নং রেল ঘুণ্টি এলাকায় নিয়মিত কাঁঠালের পাতা নিয়ে বসেন সৈয়দপুরের অফিসার্স কলোনির রোকসানা, মজিনা, মুন্সিপাড়ার জান্নাতুন, ফাতেমা বেগম। এরা কেউ ছিল ভবঘুরে। কেউবা বিপথে চলে গিয়েছিল। সংসারে অভাব-অনটনের কারণে দেখাদেখিতে এই উপার্জনের পথে এসেছেন। বিক্রি সবসময় থাকায় দিন চলে যাচ্ছে তাদের। কোরবানি বা উত্সবের সময় বাড়িতে বেশি খাসি-ছাগল আসলে বিক্রি বাট্টাও বাড়ে বলে জানায় তারা।
