দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে মেহেদীর ভিন্ন উদ্যোগ

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৩৯

>> বেনজির আবরার

 

২০১৩ সালের কথা। শীতের রাতে মেহেদী হেঁটেই বাসায় ফিরছিলেন। ঠিক পান্থপথ সিগন্যাল পার হয়ে ফার্মগেট যাওয়ার সময় লক্ষ্য করলেন রাস্তার পাশে ছোট একটা বিছানায় একটি কম্বল গায়ে একজন মা ও তার ছোট বাচ্চা প্রচণ্ড শীতে কাঁপছে। এ দেখে তার খুব খারাপ লাগছিল। তত্ক্ষণাত্ কিছু না ভেবেই তাদের কাছে যেয়ে তার গায়ের জ্যাকেট ও কিছু টাকা দিলেন মেহেদী। এরপর নিজের জন্মদিনগুলোতে সুবিধাবঞ্চিতদের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য তাদের সঙ্গে নিয়ে কেক কাটেন। ২০১৫ সালে নিজ উদ্যোগ ও অর্থায়নে প্রতিষ্ঠা করেন আরপি ফাউন্ডেশন (বিভোল্ট অ্যাগেইনস্ট প্রভার্টি)। বর্তমানে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় এর প্রতিনিধি ও সদস্য রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলার অদূরে চণ্ডিপুর নামক গ্রামে জন্ম মো. মেহেদী হাসানের। এখানেই তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। পড়াশোনা করেছেন উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত ঢাকায়। এরপর ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন মালয়েশিয়ায়। বিবিএ (অ্যাকাউন্টিং) করেছেন আমেরিকার বার্মিংহাম নিভোরিয়া গ্লোব ইউনিভার্সিটি থেকে। বর্তমানে মাস্টার্স ইন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসে পড়ছেন মালয়েশিয়াতে ফ্রান্সের ইউরোপিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি শাখায়। আরপি ফাউন্ডেশন মূলত গরিব, অসহায়, দুস্থদের মাঝে বিনামূল্যে চিকিত্সাসেবা, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও খাবারের ব্যবস্থা করা, স্কুলগুলোতে ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ প্রেরণ, দেশের গুণীজনদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান, মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন করা, বেকারদেরকে কর্মসংস্থানে সাহায্যসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড করে থাকে। আরপির বর্তমান কাজগুলোর মধ্যে প্রতিটি জেলাতে সাহিত্যচর্চা টিকিয়ে রাখার জন্য মাসে একবার সাহিত্য আড্ডা বা আসর করা। এবার বইমেলায় এসেছে আরপি ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বই ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম ভাবনা ৭১’। সম্পাদনা করেছেন ফখরুল হাসান। তরুণদের সম্পর্কে মেহেদী বললেন, ‘তরুণেরা এদেশের ভবিষ্যত্। আরপি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার অন্যতম লক্ষ্য হলো দক্ষ, শিক্ষিত, পরিশ্রমী, মাদকমুক্ত তারুণ্য গড়ে তোলা।’