>> জাহিদ হাসান দিপু
ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছেন বিপ্লব কান্তি দাস জয়। আর্থিক অনটনে বড় হয়েছেন। একটি বেসরকারি সংস্থার স্কুলে প্রাথমিক পড়াশোনার পর রায়েরবাজার হাইস্কুল ও ঢাকা স্টেট কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেন। পরে ভর্তি হন আইইউবিএটি-তে। সেখান থেকে হোটেল ম্যানেজমেন্টে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আলিমউল্লাহ মিয়ানের হাত ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি অফিসের দায়িত্ব পান। ২০১৪ থেকে সেখানে কাজ করেন ২০১৮ পর্যন্ত। ব্যবসা করার ইচ্ছা থাকলেও পুঁজি ও অভিজ্ঞতার অভাবে হয়ে ওঠেনি। তবে কলেজে পড়ার সময় থেকেই সেভ দ্য চিলড্রেন, ঝিনুকমালা ও কিছু স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুবাদে পাবলিক স্পিকিং, অনুষ্ঠান উপস্থাপনা, মঞ্চনাটকে অভিনয় ও গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল তার, সেটাই তাকে মানুষের সঙ্গে মিশে কাজ করার ব্যাপারে উত্সাহ দিয়েছে। সেই পথ ধরেই বর্তমানে আইডিয়াল ফোকাস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আইডিয়াল ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি ক্যারিয়ার ট্রেনার, পাবলিক স্পিকার, ক্যারিয়ার কাউন্সিলার ও টিচিংয়ে কাজ করছেন। নিজের ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টের জন্য বিআইএম-এ পিজিডিএইচআরএম করছেন। সেপ্টেম্বরে পিএইচডি শুরু করবেন পুত্রা বিজনেস স্কুলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষে চাকরি শুরু করার সময় থেকেই তিনি ভাবতেন, প্রতিটি মানুষের মধ্যেই লিডারশিপ কোয়ালিটি আছে, এটিতে ফোকাস করে তাদের উত্সাহ দিয়ে স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য কাজ করা যেতে পারে। সেই ভাবনা থেকেই শুরু করেন তার প্রতিষ্ঠান ফোকাস আইডলের কার্যক্রম। এ প্রসঙ্গে বিপ্লব কান্তি দাস বললেন, ‘আমরা চাই মানুষ চাকরির পিছনে না ছুটুক। দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে নিজেরাই কর্মসংস্থান তৈরি করুক।’ ক্যারিয়ার ইভেন্ট, সেমিনার ও ওয়ার্কশপ আয়োজনসহ বিভিন্ন কাজ করছে ফোকাস আইডল। কিছু সফটস্কিল ও আইটি ট্রেনিং, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, ইংলিশ স্পোকেন ও প্রেজেন্টেশন, লিডারশিপ স্কিল ডেভেলপমেন্টের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অফিস প্যাকেজ, গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ওয়েব ডিজাইনেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আগামীতে বেশকিছু পরিকল্পনা আছে আইডোল ফোকাসের। মার্চে সুইসাইড বিষয়ক একটি ইভেন্ট, মার্কেটিং নিয়ে সেমিনার, পাবলিক স্পিকিং বিষয়ক সেশন, মুভ ফর পজেটিভিটি, কলেজ-স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ক্যারিয়ার গাইডলাইনস উইথ বিপ্লব কান্তি দাস’ শীর্ষক কিছু আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বিপ্লবের মায়ের নামে সীমা ফাউন্ডেশন স্কুল নামের একটি স্কুল চালুর জন্যও কাজ চলছে।
