ইতালিকে ৩৭-এ থামিয়ে ফাইনালে স্পেন

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২১, ২২:৪৯

খুব হতাশ রবার্তো মানচিনি। তিন বছরে ইতালিকে এক প্রকার অজেয় বানিয়ে ফেলেছিলেন ইউরো জয়ী এই কোচ। গত মাসেই গড়েন আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা অপরাজিত থাকার রেকর্ড। ইউরোর পর এবার উকি দিচ্ছিলেন উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপার দিকে। কিন্তু সেটা হতে দিলেন না লুইস এনরিকে। ফেরান তোরেসের জোড়া গোলে আজ্জুরিদের ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে যায় স্পেন। একই সঙ্গে থামিয়ে দেয় ইতালির অজেয় (৩৭ ম্যাচ) থাকার যাত্রা। তাই মানচিনির হতাশ হওয়াটাই স্বাভাবিক।

গত ইউরোতে সেমি-ফাইনালে এই ইতালির কাছে হেরেই ছিটকে যায় স্পেন, তাও টাইব্রেকারে। নেশনস লিগের সেমি-ফাইনালে সেই হারের মধুর  প্রতিশোধ নিল লা রোজারা। ম্যাচশেষে জয়ের নায়ক তোরেস বলেন, ‘ইউরোর সেমিফাইনালে হেরে গিয়েছিলাম আমরা। আরেকটি সেমিফাইনালে তাদেরকে তাদেরই মাটিতে হারানোর চেয়ে দারুণ কী বা হতে পারে।’

নিজেদের মাঠ হলেও সানসিরোতে মাত্র ২৫ ভাগ সময় বলের দখল রাখে ইতালি।  দুর্দান্ত পাসিং ফুটবলে ১৭ মিনিটে এগিয়ে যায় স্পেন।  বা প্রান্ত থেকে মিকেল ওইয়ারসাবেলার ক্রসটি ভলির মাধ্যমে জাল খুঁজে নেন তরেস। ১-০ তে পিছিয়ে থাকা ইতালি বড় ধাক্কা পায় ৪২ মিনিটে। সের্হিও বুসকেটসকে কনুইয়ের আঘাত মেরে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন অধিনায়ক লিওনার্দো বোনুচ্চি। সেই ক্ষত সামাল দেওয়ার আগেই ১০ জনের ইতালিকে ২-০তে পিছিয়ে তোরেস। সেই ওইয়ারসাবেলার ক্রস থেকেই দারুণ হেডে ইতালি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি ডোন্নারুমাকে নির্বাক করেন এই ফরোয়ার্ড। বিরতির পর দুই দলই পায় বেশ কয়েকটি সুযোগ। ৮৩ মিনিটে ফেদেরিকো কিয়েজার পাস থেকে ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন লরেঞ্জো প্যালেগ্রিনি। কিন্তু উত্তেজনার তাপটা আর বাড়েনি শেষে। ম্যাচের অর্ধেকেরও বেশি সময় ১০ জন নিয়ে খেলাটা মেনে নিতে পারেননি মানচিনি। ইতালি কোচ বলেন, ‘এটা হতাশার। আমাদের ১১ জন নিয়ে খেলা শেষ করা উচিত ছিল। আমরা ভুল করেছি, যা এই পর্যায়ে করা যায় না।’

ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স-বেলজিয়ামের মধ্যকার জয়ী দল। সেমি-ফাইনালকে অতীত মেনে এনরিকের পুরো নজর এখন আগামী বৃহস্পতিবারের ম্যাচে। তিনি বলেন, ‘খুব দারুণ জয়। কারণ, এটি আমাদের ফাইনালে নিয়ে গেছে। আমরা ইতিমধ্যে টুর্নামেন্টের দুই সেরা দলের একটি। এখন আমাদের অতীত ভুলে ফাইনালের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। সেদিন আমাদের আজকের থেকেও আরো ভালো দল হতে হবে।’