স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রায় ৮০ লাখ। তবে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকার, জনপ্রতিনিধিসহ সবার এগিয়ে আসতে হবে। তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে না পারলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রকল্পে মাদকাসক্তি নিরাময় ও মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ কেন্দ করেন। মাদকাসক্তদের সুস্থ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার প্রত্যয়ে বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটল ওয়েসিসয়ের।
রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার পথ। বুড়িগঙ্গা সেতু পার হলেই শান্ত-স্নিগ্ধ এক মনোরম স্থান। চারদিকে গাছপালায় ঘেরা সবুজ বনানী। ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে এমনই এক নয়নাভিরাম নির্মল পরিবেশে পথচলা শুরু করল মাদকাসক্তি নিরাময় ও মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ কেন্দ ‘ওয়েসিস’। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পুলিশ প্রধান (আইজিপি) ও বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ড. বেনজীর আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আজিজুল ইসলাম।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই মাদক সেবনে মানুষ কখনোই স্বাভাবিক থাকতে পারে না। অথচ এসবে যুবসমাজ আসক্ত হয়ে পড়েছে। তাদের সেখান থেকে রক্ষা করতে হবে। না হলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় যোগ্য নেতৃত্ব পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়াবে। এজন্য শুধু সরকার কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়, পরিবার, জনপ্রতিনিধি সর্বোপরি সব ধরনের জনগণকে মাদকের বিরুদ্ধে এগিয়ে আসতে হবে।
পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট উদ্বোধন হওয়া ওয়েসিস মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দে র প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই কেন্দ টির মাধ্যমে দেশে মাদকে আসক্ত যে কোনো ব্যক্তিকে আধুনিক উপায়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। এখানে আধুনিক সব চিকিত্সার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক সার্বক্ষণিক নিয়োজিত আছেন। নিরাময় কেন্দে র ফলে শুধু কেরানীগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় নয়, সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের উপকারে আসবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পুলিশ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন এবং সমাজে নিরাপত্তা প্রদানের ক্ষেত্রে বড় অবদান রাখছে। তিনি বলেন, করোনা মোকাবিলায় সম্মুখযোদ্ধা হিসেবেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে পুলিশ। বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য নসরুল হামিদ বিপু মাদকাসক্তদের চিকিত্সায় এ ধরনের একটি আধুনিক চিকিত্সাকেন্দ স্থাপন করায় বর্তমান আইজিপির গতিশীল নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সভাপতির বক্তব্যে আইজিপি ওয়েসিস গড়ার উদ্যোগে শামিল হওয়ার কারণ উল্লেখ করে বলেন, ধনী-গরিব নির্বিশেষে মাদকাসক্ত সদস্যদের নিয়ে পরিবারের দুর্ভোগের ভয়াবহ করুণ চিত্র আমি দেখেছি। এ কারণে আমরা একটি আধুনিক মাদকাসক্তি নিরাময় ও মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ কেন্দ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. গোলাম রব্বানী, ডা. অরূপ রতন চৌধুরী ও ডা. মোহিত কামাল এবং ঢাকার জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম প্রমুখ।
