লেখা ও ছবি : মো. রেদোয়ান হোসেন
পথের ধারে অযত্ন-অবহেলায় বেড়ে ওঠা অতি পরিচিত ফুল। বহুবর্ষজীবী সপুষ্পক এ উদ্ভিদটি সকলের প্রিয়। বসন্তের আগমনে পলাশ-শিমুলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফোটে। ভাঁট ফুলের শুভ্রতা আর সুগন্ধ মানুষকে বিমোহিত করে। অঞ্চলভেদে ঘেটু, ভাটিফুল, বুনো জুঁই নামে পরিচিত। বাগান, পরিত্যক্ত মাঠ, বন, রাস্তা কিংবা জলাশয়ের পাশে ভাঁট ফুলের ঝোপ চোখে পড়ে। গাছ লম্বায় সাধারণত চার ফুট পর্যন্ত হয়। কাণ্ড মোটামুটি শক্ত প্রকৃতির, পাতা সবুজ বর্ণের—দেখতে তামাক পাতার মতো। ফুল থেকে বীজ হয়। বীজের রং কালো। বীজ এবং কন্দ এই দুই মাধ্যমে বংশবিস্তার করে। ফুলের রং সাদা। সাদা ফুলের মাঝখানে হালকা বেগুনি আভা থাকে। এতে পাঁচটি পাপড়ি ও সমসংখ্যক লম্বা কিশোর থাকে। প্রাকৃতিক মধুর অন্যতম উত্স এ ফুল; মৌমাছি, ভ্রমর বা অন্যসব কীটপতঙ্গ মধু সংগ্রহে এলে এর মাধ্যমে পরাগায়ন ঘটে।
ভাঁট ফুলের রয়েছে চমত্কার ভেষজগুণ। জ্বর, মাথাব্যথা, চর্মরোগ, কৃমি ও আমাশয় প্রতিরোধে এটি দারুণ কার্যকর। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা চৈত্রসংক্রান্তিতে চর্মরোগ নিবারণের জন্য ভাঁটফুলের আরাধনা করে। ভাঁট ফুলে মুগ্ধ ছিলেন রূপসী বাংলার কবি জীবানানন্দ দাশ। তাঁর কবিতায় আছে—‘বাংলার নদী মাঠ ভাঁটফুল ঘুঙুরের মতো কেঁদেছিল তার পায়ে’।
