আফগানিস্তানের কুন্দুজ শহরের এক মসজিদে চালানো আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৪৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১৪০ জনের বেশি। তবে নিহতের সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ এর মধ্যে হতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। হামলার পরপরই দেশটির কর্মকর্তারা নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়ানোর কথা জানিয়েছিলেন। ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আফগানিস্তান শাখা হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। মার্কিন সৈন্যদের আফগানিস্তান ত্যাগ এবং তালেবান ক্ষমতায় আসার পর এটাই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। খবর বিবিসি ও আলজাজিরার
কুন্দুজে সাঈদ আবাদ নামের মসজিদটিতে সংখ্যালঘু শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ নামাজ পড়তেন। মসজিদের ভেতর মৃতদেহ ছড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। উত্তরাঞ্চলীয় শহরটিতে এই বোমা হামলায় শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। স্থানীয় ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীসহ সুন্নি মুসলিম চরমপন্থিরা এর আগেও শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালিয়েছে। আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত আঞ্চলিক গোষ্ঠী আইএস-কে দেশটিতে তালেবান শাসনের চরম বিরোধিতা করছে। আইএস-কে প্রধানত দেশটির পূর্বাঞ্চলে সম্প্রতি বেশ কিছু বোমা হামলা চালিয়েছে। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী যালমাই আলোকযাই ঘটনার পরই হাসপাতালে ছুটে যান ডাক্তারদের দান করা রক্তের প্রয়োজন আছে কি না, তা জানতে। তিনি বলেন তিনি সেখানে বিশৃঙ্খল দৃশ্য দেখেছেন। তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, কুন্দুজের শিয়া সম্প্রদায়ের মসজিদকে হামলার নিশানা করা হয়েছে। বিস্ফোরণে বহু মানুষের প্রাণ হারানোর খবর পাচ্ছি। তালেবানের বিশেষ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তারা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে। রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা বাখতার নিউজ জানিয়েছে, অন্তত ৪৬ জন নিহত এবং ১৪০ জনের বেশি আহত হয়েছে। তবে দুই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রয়টার্স বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, মৃতের সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ এর মধ্যে হতে পারে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে টোলো নিউজ জানায়, নামাজে তিন শতাধিক মুসল্লি অংশ নিয়েছিলেন।
তালেবানের জন্য বিশাল হুমকি
বিবিসির সংবাদদাতা সিকান্দার কিরমানি বলছেন, আইএস-কে গোষ্ঠী আগস্টে কাবুল বিমানবন্দর লক্ষ করে বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছিল। তিনি বলেছেন, এই গোষ্ঠী আফগানিস্তানের সংখ্যালঘু শিয়া সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে অতীতে অনেকগুলো হামলা চালিয়েছে যার মধ্যে মসজিদ, স্পোটর্স ক্লাব এবং স্কুল রয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে আইএস তালেবানের বিরুদ্ধেও হামলা জোরদার করেছে। রবিবার কাবুলে জানাজা লক্ষ্য করে আইএস হামলা চালিয়েছে, যেখানে যোগ দিয়েছিলেন তালেবানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা। এছাড়াও পূর্বাঞ্চলে নানগারহার এবং কুনার প্রদেশেও বেশ কয়েকটি ছোট মাপের হামলা হয়েছে বলে কিরমানি জানান। এই দুটি প্রদেশ আগে আইএসের শক্ত ঘাঁটি ছিল।
শুক্রবারের হামলার মাধ্যমে প্রমাণ হলো দেশের উত্তরাঞ্চলে এই গোষ্ঠী যে তাদের তত্পরতা জোরদার করছে, এ ঘটনা সেটারই স্পষ্ট ও উদ্বেগজনক ইঙ্গিত বলে কিরমানি জানান। তালেবান বলছে, তারা আইএসের কয়েক ডজন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। তবে আইএস তালেবানের জন্য যে বিশাল একটা হুমকি হয়ে উঠছে, সেটা তারা প্রকাশ্যে বড় করে দেখাতে চাইছেন না বলে মনে করছেন কিরমানি। বহু আফগান আশা করেছিল, তালেবান ক্ষমতা হাতে নেওয়ার পর স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা এলেও একটা অপেক্ষাকৃত শান্তিপূর্ণ শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু সিকান্দার কিরমানি বলছেন, তালেবান নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, আইএস তাতে বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠছে।
