হাজীগঞ্জে নিষিদ্ধ জালে মাছ নিধন

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২১, ২১:২৭

বিলুপ্তির পথে দেশীয় মাছ

হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা

হাজীগঞ্জে উপজেলায় খাল-বিলে ভেসাল ও কারেন্ট জাল দিয়ে অবাধে মাছ নিধন চলছে। বর্ষা মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন বিল ও খালে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ ধরার উত্সব শুরু হয়। অধিক মাছের লোভে মত্স্য শিকারিরা এ ধরনের জাল ব্যবহার করছে। এতে বড় মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছের ছোট আকারের পোনাও ধরা পড়ছে। এতে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন ও উত্পাদনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। যার ফলে দেশীয় প্রজাতীর মাছগুলো বিল থেকে দিন দিন বিলুপ্ত হচ্ছে। সচেতন মহলের দাবি, ভেসাল ও কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধ না হলে দেশি প্রজাতীর মাছের বংশবিস্তার বন্ধ হয়ে যাবে। সাপ, ব্যাঙসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীও কমে যাবে।

সরেজমিনে বিভিন্ন খাল-বিলে দেখা যায়, মাছ শিকারিরা ভেসাল ও কারেন্ট জাল দিয়ে অবাধে দেশীয় প্রজাতির ডিমওয়ালা পুঁটি, ট্যাংরা, কই, শিং, মাগুর, শোল, বাইম মাছ ধরছেন। এর সঙ্গে ব্যাঙ, সাপ, কুচিয়াসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী কারেন্ট জালে আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে। অন্যদিকে স্থানীয় হাটবাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে এসব জাল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক জন কারেন্ট জাল বিক্রেতা বলেন, কেউ প্রকাশ্যে আবার কেউ গোপনে জাল বিক্রি করছে। শুধু বড় বাজারগুলোতে নয়, উপজেলার অনেক হাট-বাজারেই কারেন্ট জাল পাওয়া যায়। আব্দুল কাদির নামের একজন কারেন্ট জাল ব্যবহারকারী বলেন, কারেন্ট জাল ওজনে কম এবং বহনে সহজ। জালের দাম কম, মাছ ধরতেও সুবিধা বেশি। এই জালে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ ধরা পড়ে। এ কারণে সবাই কারেন্ট জাল ব্যবহারে আগ্রহী। জামাল হোসেন নামের একজন ভেসাল জাল ব্যবহারকারী বলেন, নিষিদ্ধ কিনা জানি না। জীবিকার তাগিদে মাছ ধরছি। তাছাড়া ছোটকাল থেকেই দেখছি ভেসাল জাল দিয়ে মাছ ধরছে।

এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা মো. ওয়ালি উল্যাহ সরকার মত্স্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বলেন, জনসচেতনতা তৈরি না হলে ভেসাল ও কারেন্ট জালের ব্যবহার কমবে না। এছাড়া জনবল স্বল্পতার কারণে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাচ্ছে না। ঐ সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোমেনা আক্তার বলেন, জনসচেতনতার লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে মাইকিং করা হয়েছে। এছাড়াও ভেসাল ও কারেন্ট জাল ব্যবহারকারীদের নিজ নিজ দায়িত্বে জাল সরানোর নির্দেশনা দেওয়া হবে। এরপর যদি কেউ ভেসাল ও কারেন্ট জাল ব্যবহার করে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।