সর্বরামপুর-দুর্গাপুর পাখির গ্রাম

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২১, ২১:২৮

আব্দুর রউফ রিপন, রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার পাখির গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে কাশিমপুর ইউপির সর্বরামপুর ও গোনা ইউপির দুর্গাপুর গ্রাম। প্রতিদিনই এই পাখি দেখতে ভিড় করেছেন অনেক পাখিপ্রেমী মানুষরা। আবার অনেকেই গ্রামবাসীর অজান্তে পাখি শিকার করছেন। অবশ্য এই পাখি শিকারিদের অনেকই আবার গ্রামবাসীর তোপের মুখে পালিয়ে যান। গ্রামবাসীর দাবি যদি সরকারিভাবে পাখিগুলো সংরক্ষণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতো তাহলে হয়তো-বা এই দুটি গ্রাম পাখির অভয়ারণ্যে পরিণত হতে পারত। আর নিরাপদেই হাজার হাজার পাখি এখানে প্রজনন করে বংশবিস্তার করতে পারত।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এই দুটি গ্রামের বড় বড় গাছে কয়েক বছর ধরে বাস করছে শামুকখোল ও তার একাধিক প্রজাতি এবং বকসহ কয়েকটি প্রজাতির প্রায় কয়েক হাজার পাখি। সারাক্ষণ চলে ওদের ডানা ঝাপটানো ও দল বেঁধে উড়ে যাওয়া আবার গাছে পড়া। কেউ বা উড়ে যাচ্ছে খাবার সংগ্রহ করতে। আবার কেউ মুখে করে খাবার নিয়ে এসে তুলে দিচ্ছে বাচ্চার মুখে। সারা দিন চলে তাদের এমন কর্মযজ্ঞ। সন্ধ্যার একটু আগে থেকে এই অঞ্চলটি মুখরিত হয়ে ওঠে পাখির কল-কাকলিতে। নির্বিঘ্নে রাত কাটিয়ে আবার ভোর হলেই খাবারের সন্ধানে উড়ে যায়। দিনশেষে আবারও তারা নীড়ে ফিরে আসে। কিন্তু মাঝেমধ্যে পাখি দেখতে আসার নামে কিছু ব্যক্তি সবার অজান্তেই গুলি করে পাখি শিকার করে। এতে ভয়ে অনেক পাখিই অন্যত্র চলে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা আসলাম হোসেন, বকুল ইসলামসহ অনেকেই বলেন, আমাদের কাছে এই পাখিগুলো বর্তমানে আমাদের পরিবারের সদস্যে পরিণত হয়েছে। তাই সরকারের পক্ষ থেকে গ্রামে প্রবেশের আগেই যদি সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ ও সচেতনমূলক কিছু পোস্টার, ব্যানার কিংবা সাইনবোর্ড টাঙিয়ে এই অঞ্চলকে পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয় তাহলে হয়তো পাখি শিকার কমবে। দর্শনার্থী কাজী কামাল হোসেন, শাহরুখ হোসেন আহাদসহ অনেকেই বলেন লোকমুখে শুনে পাখি দেখতে এসেছি। হাজার পাখির সমাবেশ খুব সুন্দর লেগেছে কিন্তু পাখিগুলোর নিরাপত্তার জন্য সরকারিভাবে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। উপজেলা প্রকৃতি ও পাখি সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি ও গণমাধ্যমকর্মী এস এম সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে বিলুপ্তপ্রায় এই পাখিগুলোর টিকে থাকা অনেক জরুরি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, আমি নিজে ঐ পাখির অঞ্চল পরিদর্শন করব। এছাড়া এই পাখিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করব। এছাড়া সরকারের পাশাপাশি আমাদের সকলকেই পাখি রক্ষায় আরো বেশি সচেতন হতে হবে।