স্তন ক্যান্সারে বছরে আক্রান্ত ১৩ হাজার  

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২১, ২১:৪২

শুধুমাত্র দ্রুত শনাক্ত না হওয়ার কারণে স্তন ক্যান্সারে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে। এ রোগ সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং অসচেতনতা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘আইএআরসি’র ২০২০ সালের হিসাব মতে, বাংলাদেশে প্রতিবছর ১৩ হাজার নারী নতুন করে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। এরমধ্যে মারা যায় সাড়ে ছয় হাজারের বেশি। নারীরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন এই ক্যান্সারে।

তৃণমূলের নারীদের এ রোগ সম্পর্কে এখনো সচেতন করা সম্ভব হয়নি। তবে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হলে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে জানান সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

এমন পরিস্থিতিতে দেশে আগামীকাল রবিবার (১০ অক্টোবর) নবমবারের মতো পালিত হবে ‘স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস’। এ বছর স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে ‘স্ক্রিনিং জীবন বাঁচায়’। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যবেক্ষণ মতে-এখন সময় হয়েছে সচেতনতার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ নারীদেরকে লক্ষণ না থাকলেও স্ক্রিনিং, অর্থাৎ কিছু সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে গোপন থাকা স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ে উদ্বুদ্ধ করা। 

বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরামের সমন্বয়কারী ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন ইত্তেকাককে বলেন, আমরা গত ১৫ বছরে যাদের সচেতন করতে পেরেছি, তাদের স্ত্রিনিংয়ের আওতায় আনতে পারি নাই। তারা কথা শোনে, কিন্তু আক্রান্ত না হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন না। অথচ স্ত্রিনিংটা স্তন ক্যান্সার শনাক্তের জন্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্যে এবার আমরা বলেছি, শোনেন, জেগে ওঠেন এবং পরীক্ষা করতে আসেন। ২০ বছর বয়স থেকে প্রতি মাসে নিজে নিজের স্তন পরীক্ষা করবে। আর বছরে একবার দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীকে দিয়ে স্তন পরীক্ষা করাতে হবে।    

   

বিআরবি হাসপাতালের ব্রেস্ট ইউনিটের কনসালটেন্ট ডা. আলী নাফিসা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে শতকরা ৩০ ভাগ স্তন ক্যান্সারে মৃত্যু প্রতিরোধ করেছে দেশটি। আমাদের দেশে ৩৫ বছরের পর থেকে নিয়মিত স্তন পরীক্ষার এবং মোমগ্র্যাফির মাধ্যমে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়িতে কাজ করতে হবে। কারণ প্রাথমিক বা দ্রুত শনাক্ত হলে শতকরা ৯৫ ভাগ স্তন ক্যান্সার নিরাময় সম্ভব।        

ইত্তেফাক/এএএম