সিংগাইরে ইউনিয়ন পরিষদের জমি চেয়ারম্যানের দখলে

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২১, ২২:২০

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা

উপজেলার শায়েস্তা ইউনিয়ন পরিষদের জমির দখল ছাড়ছেন না ক্ষমতাসীন দলের ইউপি চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিন চোকদার। জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের জমি দখল করে দোকানঘর  তৈরি করে তা বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগে ইতিপূর্বে জেলার স্থানীয় সরকারের   উপপরিচালক (উপসচিব) ফৌজিয়া খান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাহেলা রহমত উল্লাহ এ সব দোকানঘর ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। তবে উক্ত নির্দেশ অমান্য করে ২৬টির মধ্যে ১৯টি  ঘর ভাঙা হলেও  এখনো বহাল সাতটি দোকানঘর। চেয়ারম্যান নিজ ছেলের নামে একটি ও এক জনের নামে ছয়টি দোকান বরাদ্দ দেন। পরিষদের জায়গা বরাদ্দ পাওয়া  শায়েস্তা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ আল মামুন টিপু বলেন, ‘নিজেরাই দোকানঘর তৈরি  করে পরিষদের জমি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে মাসে ১ হাজার ২০০ টাকায় ভাড়া নিয়েছি। চেয়ারম্যান আমাদের স্ট্যাম্প করে দিয়েছেন। তবে রশিদ না দেওয়ার কারণে এখনো ভাড়া দেওয়া শুরু করিনি।’

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘এখানে পরিষদের নামে ১০ শতাংশ জমি রয়েছে। যার দলিলপত্র আমি রেখে এসেছি। এর আগেও এখানে ঘর উঠিয়ে জমি দখল করেছিল স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি। তখন আমি তা দখলমুক্ত করি। সেই জমিই বর্তমান চেয়ারম্যান দখল করে দোকানঘর করে নিজের ছেলের নামে একটি রেখে অন্য ছয় জনের কাছে পজিশন বিক্রি করে দেন। ঐ জমির দলিলও তিনি গায়েব করে দিয়েছেন।’ একই কথা বললেন, জেলা পরিষদের সদস্য থানা আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল আলিম।

পরিষদের সচিব মো. মঞ্জুরুল হক ভূঁইয়া বলেন, এটি পরিষদের জায়গা হলেও পরিষদ কোনো ভাড়া পায় না। এই ভাড়ার টাকা এবং বরাদ্দের টাকার কথা চেয়ারম্যানকে বার বার জিজ্ঞাসা করলেও তিনি দেই দিচ্ছি করে সময় পার করছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনা লায়লা বলেন, পরিষদের জমিতে স্থাপনা তৈরি করা কিংবা বরাদ্দ দেওয়া চেয়ারম্যানের কোনো এখতিয়ার নেই। বিষয়টির খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, অমিত কুমার রায় নামে জীবিত এক ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে অজ্ঞাত পরিচয়ে এক জনকে তার ছেলে বানিয়ে ওয়ারিশান সনদ দিয়ে দাতা সাজিয়ে জাল দলিল করার অভিযোগও রয়েছে উক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে ঐ অমিতের মেয়ে অদিতি রায় ২০১৭ সালের ১১ মে মানিকগঞ্জ  জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চেয়ারম্যান গংদের বিরুদ্ধে মামলাও করেন। সিআইডি পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জ দাখিল করে। ওয়ারেন্ট জারি হলে পুলিশ চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। কিন্তু নানা মহলের তদবিরে বাদীকে মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে আদালতে নেওয়া হলে চেয়ারম্যান আদালত থেকে জামিন পান। মামলাটি এখনো বিচারাধীন ।  

চেয়ারম্যান মোসলেম চোকদার বলেন, তিনি কোনো জাল দলিল করেননি। অদিতি রায় মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের রাজস্ব বাড়ানোর জন্য জমিতে দোকানঘর তৈরি করে তা ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।  ধ