সিপিডির সংলাপ

হয়রানি ও চাপমুক্ত পরিবেশ পেলে বেশি দিন কাজ করতে আগ্রহী গার্মেন্ট শ্রমিকরা

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২১, ২২:৪৮

তৈরি পোশাক শিল্পে হয়রানিমুক্ত পরিবেশ পেলে কাজ ছাড়তে চান না বেশির ভাগ শ্রমিক। শ্রম অধিকার নিয়ে কারখানায় সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড থাকলেও অভিযোগের বেশির ভাগ মৌখিক সমাধান করছেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকরা হয়রানির যে অভিযোগ জানাচ্ছে তার ৭ দশমিক ২৫ ভাগ যৌন হয়রানিমূলক অভিযোগ। এছাড়া ১৩ ভাগ শারীরিক হয়রানির অভিযোগও রয়েছে। গতকাল শনিবার বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘জাতিসংঘের নীতিকাঠামোর আলোকে পোশাক খাতে শ্রম ও কর্মপরিবেশের উন্নয়ন’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সংলাপে এ তথ্য জানানো হয়। ক্রিশ্চিয়ান এইড ইন বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ আলোচনায় অংশ নেন সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক, শ্রমসচিব মো. এহছানে এলাহী, তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। মূল উপস্থাপনায় তিনি বলেন, পোশাক খাতে শ্রম ও কর্মপরিবেশের উন্নয়ন নিয়ে এক জরিপে শ্রমিকদের জিজ্ঞেস করা হয়েছিল কী কারণে তারা কারখানা ছেড়ে চলে যেতে চায় বা এ কারখানায় থাকতে চায়। এক্ষেত্রে নারীদের বেশির ভাগ বলেছে চাইল্ড কেয়ার সুবিধা পেলে তারা আরো বেশি দিন কাজ চালিয়ে যেতে চায়। তাছাড়া নারী-পুরুষ উভয় ক্ষেত্রে হয়রানি যেখানে বেশি, সেখান থেকে তারা চলে যেতে চায়। মূল উপস্থাপনায় বলা হয়েছে, যে ধরনের      অভিযোগ শ্রমিকদের পক্ষ থেকে রেকর্ড করা হয়েছে তার মধ্যে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ শ্রমিক যৌন হয়রানির অভিযোগ। বড় শিল্প কারখানার তুলনায় তুলনামূলক ছোট ছোট শিল্প কারখনায় এই অভিযোগ বেশি। ৮২ দশমিক ৬১ শতাংশ হলো মৌখিক হয়রানির অভিযোগ। শারীরিকভাবে হয়রানির অভিযোগ জানিয়েছে ১৩ শতাংশ। বেতন ও ওভারটাইম নিয়ে হয়রানির অভিযোগ ২৬ শতাংশ। বাড়তি কাজের জন্য হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে ২১ শতাংশ। জরিপে ৩৪ ভাগ শ্রমিক জানিয়েছে তাদের হয়রানি প্রতিরোধে কারখানাগুলোতে কমিটি রয়েছে। তবে এসব কমিটিগুলোর বেশির ভাগ কার্যকর নয়। সব কারখানায় এ ধরনের কমিটি গঠনের সুপারিশ করেন গোলাম মোয়াজ্জেম।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিজিএমইএ প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বিগত দিনগুলোতে যে বায়ারদের কাছে আমরা ইথিকাল কথা শুনেছি, করোনার সময় তাদের উলটো চিত্র দেখা গেছে। তারা কীভাবে অর্ডার ক্যানসেল করেছেন, দেরি করে টাকা পরিশোধ করেছেন সে চিত্র আমরা দেখেছি। তিনি বলেন, ট্রেড ইউনিয়ন নিয়ে পোশাকশিল্পের মালিকদের মধ্যে ভীতি কাজ করে। তবে দায়িত্বশীল ট্রেড ইউনিয়ন গঠনকে আমরা স্বাগত জানাই, যদিও দেশে দায়িত্বশীল ট্রেড ইউনিয়ন আছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

মুজিবুল হক বলেন, আমাদের দেশে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের মধ্যে দূরত্ব রয়েছে। উভয়পক্ষের সচেতনতা বৃদ্ধি ও সংলাপের মাধ্যমে এই দূরত্ব ঘোচানো সম্ভব। বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, এই শিল্পে এখন সংকট দেখা যাচ্ছে। একদিকে তৈরি পোশাকের দাম কমে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিবহন খরচ বেড়েছে ক্ষেত্র বিশেষে পাঁচ গুণ। এরপরেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মপরিবেশের অনেক উন্নতি হয়েছে যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বৃকৃত। শ্রমসচিব মো. এহছানে এলাহী বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মপরিবেশের অনেক উন্নতি হয়েছে। আরো উন্নতির জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে প্রবেশে সর্বনিম্ন বয়স কত হবে তা নির্ধারণের শেষ পর্যায়ে আছি আমরা। শ্রম বিধিমালা সংশোধনও শিগগিরই শেষ হবে। শ্রম অধিকারের বিষয়গুলো নিয়ে মালিকপক্ষকে আরো জোর দিতে হবে। শ্রমিকনেতা বাবুল আক্তার বলেন, পোশাকশিল্পের মালিকেরা ট্রেড ইউনিয়ন মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত নন। তারা ট্রেড ইউনিয়নকে এলার্জি মনে করেন।