সিরাজগঞ্জে শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য আরো দুই সপ্তাহ সময় চেয়েছেন অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন। তবে তাকে নতুন করে সুযোগ দিবে না তদন্ত কমিটি।
জানা গেছে, আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য তদন্ত কমিটির কাছে মুখোমুখি না হয়ে কালক্ষেপণ করছেন ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন। তিনি মোবাইলে ফোন করে তদন্ত কমিটির কাছে সময় চেয়েছেন। আবার অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে দুই সপ্তাহ সময় চেয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ইমেইল ও চিঠি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সশরীরে উপস্থিত হতে না পারলেও অসুস্থতার প্রমাণাদি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা তদন্ত কমিটিকে সরবরাহ করতে পারেননি ফারহানা ইয়াসমিন। তাই আর তাকে কোনো সুযোগ দিতে চাচ্ছে না তদন্ত কমিটি।
শিক্ষামন্ত্রী ও মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে আগামীকাল সোমবারের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দিতে চাচ্ছেন কমিটির সদস্যরা।
রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান তদন্ত কমিটির প্রধান লায়লা ফেরদৌস হিমেল শুক্রবার রাতে ইত্তেফাককে জানান, বারবার সময় দেওয়ার পরেও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন শিক্ষক ফারহানা। তিনি যে প্রকৃত অপরাধী ও চতুর সে বিষয়টি নিশ্চিত। ঘটনার সময়কার সিসিটিভির ফুটেজ এবং ৬০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীর বক্তব্য এবং সাক্ষ্যপ্রমাণে অনেক আগেই তা নিশ্চিত হয়েছে তদন্ত কমিটি। কমিটি জানায় আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য তাকে বারবার সময় দেওয়া হয়েছে; কিন্তু অসুস্থতার অজুহাতে বারবার সময় চেয়ে ইমেইলে চিঠি পাঠিয়ে তদন্ত কমিটিকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছেন ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন। পাশাপাশি তিনি চতুরতা করে আমাদের কার্যক্রম ঝুলিয়ে রাখার অপচেষ্টা করেছেন। যা এ কয়েক দিনে প্রমাণ মিলেছে।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ার পর ইমেইল, ডাকযোগে ও হাতে হাতে শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিনকে কম করে হলেও চারটি চিঠি পাঠিয়েছে তদন্ত কমিটি। কিন্তু তিনি তদন্ত কমিটির কাছে একটি বারের জন্যও হাজির বা মুখোমুখি হননি।
