ইত্তেফাক রিপোর্ট
ফেসবুকের অ্যাপগুলো গত শুক্রবার আবারও দুই ঘণ্টার জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এ নিয়ে এক সপ্তাহে দ্বিতীয় বারের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির সেবায় বিশ্বব্যাপী বিঘ্ন দেখা গেল। ডাউন ডিটেকটর ডটকমে দেখা যায়, বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১টার দিকে ফেসবুকের মালিকানাধীন মূল সেবাগুলো, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলে জানাতে শুরু করেন ব্যবহারকারীরা। ডিজিটাল প্ল্যাটফরমগুলো ব্যবহার করা না গেলে ডাউনডিটেকটর ডটকমে অভিযোগ জানিয়ে থাকেন ব্যবহারকারীরা।
ঘণ্টা দু-এক পর সমস্যা সমাধানের বার্তা দেয় ফেসবুক। সমস্যার মূলে আবারও ‘কনফিগারেশনে পরিবর্তন’ ছিল বলে জানিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি। এর বেশি কিছু না বললেও সচরাচর কারিগরি অবকাঠামোয় সমন্বয়ের বেলায় এমন কথা বলা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে সেবা বিঘ্ন হওয়ায় বাংলাদেশের ব্যবহারকারীরা খুব একটা ভোগান্তিতে পড়েননি বা এ নিয়ে খুব একটা হইচই হয়নি। তবে ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ বিপাকে পড়েছেন।
ঘটনাটির পর দুঃখ প্রকাশ করে ফেসবুকের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত দুই ঘণ্টায় যারা আমাদের পণ্য ব্যবহার করতে পারেননি, তাদের কাছে আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। সে সঙ্গে বলেছে, গত সোমবারের সার্ভার ডাউনের সঙ্গে গতকালের ঘটনাটির কোনো সম্পর্ক নেই। সোমবার প্রায় ছয় ঘণ্টার জন্য বন্ধ হয়ে যায় ফেসবুকের অ্যাপগুলো।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেসবুকের এক বা একাধিক অ্যাপের ওপর আমরা কতটা নির্ভরশীল, তা সোমবারের ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল। বিশ্বব্যাপী সাড়ে ৩০০ কোটির বেশি মানুষ ফেসবুকের সেবাগুলো নিয়মিত ব্যবহার করেন। সার্ভার ডাউনের সময়ে ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করতে না পারায় ‘হাজারো ডলার’ লোকসানের মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রে ফেসবুক বেশি ব্যবহার হলেও ভারত, ব্রাজিল, ফিলিপাইনসহ অনেক দেশের মানুষ হোয়াটসঅ্যাপের ওপর বেশি নির্ভর করেন। স্বজন, সহকর্মী ও গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটির বেশি মানুষ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন। সোমবারের ফেসবুক সার্ভার ডাউনের পর প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করে বলেছিল, তাদের সেবা স্থিতিশীল হতে আরো সময় লাগবে।
