বেংনাই উত্তরপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের বেংনাই উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও সেখানে যাতায়াতের কোনো রাস্তা করা হয়নি। ফলে বিদ্যালয়ে যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। সড়কের পাশের ক্যানেলে বছর দশেক আগে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হলেও দুই পাশে মাটি ভরাট করা হয়নি। এতে ভোগান্তি আরো বেড়েছে।
তারেক, নাবিলা, লামিয়াসহ পঞ্চম শ্রেণির কয়েক জন শিক্ষার্থী জানায়, এখনতো পানি কমে গেছে তাই অন্যের জমির আইল ও বাড়ির ওপর দিয়ে যাওয়া যায়। আর বর্ষার সময়তো কলাগাছের ভেলাই একমাত্র ভরসা। তারা আরো জানায়, যখন মানুষের বাড়ি ও জমির ওপর দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে তখন অনেকে বকাবকিও করে।
বেংনাই উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা উম্মে জান্নাতী বলেন, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিয়েছি, দরখাস্ত দিয়েছি। কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি। তিনি জানান, শিশুরা বর্ষায় ঝুঁকি নিয়ে কলার ভেলায় আবার পানি কমলে কাদা পানির মধ্য দিয়ে স্কুলে আসে আর বাকি সময় আসে মানুষজনের বাড়ি ও খেতের আইল দিয়ে। তিনি শিক্ষার্থীদের সহজ পথে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য একটি রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন সরকারের কাছে। বেংনাই উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শেখ আব্দুর রহিম মাস্টার বলেন, এখানে একটি রাস্তা বা ফুট ওভারব্রিজ খুবই দরকার।
পাঙ্গাসী ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সালাম বলেন, ২০১২-১৩ অর্থবছরে এডিপির একটি ২ লাখ টাকার কাজ টেন্ডারের মাধ্যমে দিয়েছিলাম সেখানে একটি কালভার্ট নির্মাণের জন্য। কিন্তু ঠিকাদার তখন কাজ শেষ না করেই অফিস থেকে বিল উত্তোলন করে নিয়েছেন। চেষ্টা করব সামনে কোনো প্রকল্প আসলে সেটি দিয়ে এখানে শিশুদের জন্য একটি রাস্তা নির্মাণের। রায়গঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন নিরাপদে স্কুলে যেতে পারে এজন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে একটি রাস্তা নির্মাণের জন্য কথা বলব।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, এখানে যোগদানের পর থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। তাই বিষয়টি জানি না। তবে এ ব্যাপারে রায়গঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান ও থানা শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে কথা বলব।
রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. গোলাম রব্বানী বলেন, আগের কালভার্টটির ব্যাপারে কিছু জানি না আর এডিপির প্রকল্পে হলে সেটি উপজেলা প্রকৌশলী বলতে পারবেন। তবে আমাদের এখানে একটি সেতুর জন্য প্রস্তাবনা দেওয়া আছে। অনুমোদন হলে সেখানে একটি সেতু করে দিতে পারব।
