স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর
প্রায় দেড় বছর প্রাণহীন থাকার পর আবারও প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে বিকেএসপির দিনাজপুর আঞ্চলিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র। পৌনে ২০০ শিক্ষার্থীর সরব পদচারণায় এখন মুখরিত প্রশিক্ষণকেন্দ্রের মাঠ, সুইমিং পুল, শিক্ষাঙ্গন। দীর্ঘ ১৮ মাসের ঘাটতি ছয় মাসের মধ্যে পূরণের চেষ্টায় কঠোর অনুশীলনে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন শিক্ষার্থী, প্রশিক্ষক ও শিক্ষকরা।
করোনায় গত বছর ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয় দিনাজপুর সদর উপজেলার বাঁশেরহাট এলাকায় অবস্থিত বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র। বাড়ী যায় দেড় শ শিক্ষার্থী।
১৮ মাস পর সেপ্টেম্বরে খুলেছে দিনাজপুর বিকেএসপি। আবারও মুখরিত হয়েছে প্রশিক্ষণ মাঠ। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি শিক্ষার্থী আর শিক্ষকদের উপস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রমে শ্রেণিকক্ষগুলো মুখরিত। প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই শুরু হয়েছে প্রশিক্ষণ। ভোর ৬টা থেকে শুরু হয় কোচদের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ। আন্তর্জাতিকমানের জিম, হকি গ্রাউন্ড, দুইটি ক্রিকেট মাঠ, সুইমিংপুল আছে। শিক্ষার্থীরাও উত্সবমুখর পরিবেশে কেউ জিমে, কেউ বা মাঠে বোলিং আবার কেউ ইনডোরে ব্যাট করছেন। সকালে প্রশিক্ষণ শেষ করে ১১টায় বিকেএসপি পরিচালিত একাডেমিক ভবনে লেখাপড়ার ব্যস্ত হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন পর মাঠে ফিরে শিক্ষার্থীরা খুশী।
দিনাজপুর বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রের উপ-পরিচালক আখিনুর জামান রুশো জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা পরীক্ষার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হয় এবং সন্ধ্যায় ঢাকায় রিপোর্ট করতে হয়। তিনি বলেন, ১৮ মাসের ঘাটতি পূরণে শিক্ষার্থীদের ফিটনেস ডেভেলপমেন্টসহ প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যেই এই ঘাটতি পূরণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোচ রয়েছেন ৯ জন। এদের মধ্যে ক্রিকেট পাঁচ জন, সাঁতারে দুই জন, হকি প্রশিক্ষক এক জন এবং ফিজিও এক জন। এছাড়াও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৯ শিক্ষক রয়েছেন। ঢাকার পরেই ক্রিকেটের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে দিনাজপুর বিকেএসপি। এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রের শিক্ষার্থী ছিল নাঈম, শুভ, নাসির, লিটন দাস। পরবর্তী সময়ে বিশ্বকাপ জয়ী অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক আকবরসহ আট ক্রিকেটারের হাতেখড়ি দিনাজপুর বিকেএসপিতে।
