কৃষি
আবুল কাসেম ভূইয়া
স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী মাশরুমের চাহিদা আমাদের দেশে দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাশরুম সম্পর্কে আগে আমাদের দেশের লোকদের তেমন ধারণা ছিল না। পত্র-পত্রিকায় মাশরুমের উপকারিতা সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর এদেশের মানুষের কাছে মাশরুমের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। অনেকেই মাশরুম চাষ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিয়ে মাশরুম চাষে এগিয়ে আসে। বর্তমানে সারা দেশে বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষ হচ্ছে। শিক্ষিত তরুণ যুবকরা মাশরুম চাষে এগিয়ে আসছে। মাশরুম বেশ লাভজনক ব্যবসা, কম পুঁজিতে অধিক লাভ করা যায়। দেশের চায়নিজ রেষ্টুরেন্টগুলো তার বড় ক্রেতা।
মাশরুম ছত্রাক জাতীয় উদ্ভিদ। মাছ, মাংস, সবজির সঙ্গে খাওয়া যায়। মাশরুমের অনেক উপকারিতা রয়েছে। বিদেশে মাশরুম ওষুধ টনিক এবং খাদ্য হিসেবে পরিচিত। জাইকার সহযোগিতায় সর্বপ্রথম ঢাকার মিরপুরে বাংলাদেশ কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগের উদ্যোগে এদেশে মাশরুম চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আশির দশকের শেষের দিকে সাভারে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাশরুম চাষ করা হয়। পরে দেশের শিক্ষিত তরুণ যুবকদের মাশরুম চাষের ব্যাপক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মাশরুম চাষ খুবই সহজ। বেকার তরুণ যুবক গৃহবধূরা এব্যাপারে এগিয়ে আসতে পারেন। দশ থেকে পনেরো হাজার টাকা বিনিয়োগ করে মাসে তিন/চার হাজার টাকা আয় করা যেতে পারে মাশরুম চাষ করে। আমাদের দেশে বিভিন্ন প্রজাতির মাশরুম চাষ করা হচ্ছে। আমাদের দেশে ঝিনুক মাশরুম এবং খড় মাশরুম বেশি উত্পাদিত হয়ে থাকে। মাশরুম চাষের জন্য বেশি জায়গার প্রয়োজন হয় না। নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ছায়াযুক্ত আর্দ্র স্থানে মাশরুম চাষ করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, আমাদের দেশে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার মাশরুম আমদানির জন্য প্রতি বছর ব্যয় হয় ৮৫ থেকে ৯০ কোটি টাকা। ব্যাপক ভিত্তিতে মাশরুম চাষ করলে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচানো যাবে। বাংলাদেশে বিভিন্ন পাঁচতারা হোটেলসহ চায়নিজ রেষ্টুরেন্টগুলো থাইল্যান্ড, কোরিয়া, চীন, অস্ট্রেলিয়া থেকে ব্যাপক পরিমাণে মাশরুম আমদানি করে থাকে। দেশে ব্যাপকভিত্তিতে মাশরুম চাষ করলে মাশরুম আমদানি বন্ধ হবে।
দেশে বিকাশমান পোল্ট্রি এবং ডেইরি শিল্পের মতো মাশরুম চাষের ব্যাপারে সরকারকে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে হবে। ব্যাপক ভিত্তিতে মাশরুম চাষের ব্যাপারে শিক্ষিত বেকার তরুণ, যুবকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। গ্রামের দরিদ্র নারীদেরও মাশরুম চাষের আওতায় আনতে হবে। আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে মাশরুম চাষ বিশেষ অবদান রাখতে পারে।
n লেখক : বীমা কর্মকর্তা
