প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, ছড়াকার, শিশু সংগঠক, নাট্যকার ও প্রবীণ সাংবাদিক রফিকুল হক দাদুভাই আর নেই। গতকাল রবিবার সকাল ১১টায় নিজ বাসায় তিনি ইন্তেকাল করেন ( ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। রফিকুল হক ১৯৩৭ সালের ৮ জানুয়ারি রংপুরের কামালকাছনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার ২ ছেলে ১ মেয়ে। বড় ছেলে প্রবাসী। গত বছর পরপর দুই বার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। সুস্থ হয়ে কর্মস্থল যুগান্তরে যোগ দিলেও বার্ধক্যসহ নানা জটিলতায় প্রায় ছয় মাস আগে মুগদার বাসায় পুরোপুরি শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।
দাদুভাইয়ের মরদেহ গতকাল বিকালে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে নেওয়া হলে একাডেমির মহাপরিচালক মুহমমদ নূরুল হুদা, পরিচালক জালাল আহমেদসহ অন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষে অতিরিক্ত সচিব মো. শওকত আলী এবং যুগ্মসচিব এ জে এম আব্দুল্যাহেল বাকী দাদুভাইয়ের মরদেহে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন। এছাড়াও রফিকুল ইসলাম দাদুভাইয়ের মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কবি জাফর আহমদ রাশেদ, প্রকাশক দীপঙ্কর দাশ, কবি ইমরোজ সোহেল, বাপ্পি সাহা, তৌহিদুল ইসলাম কনক, রুবেল আহম্মেদ এবং নিকটাত্মীয় নূরুল ইসলাম প্রমুখ। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রয়াত রফিকুল হক দাদুভাইয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দাদুভাইয়ের মরদেহ তার কর্মস্থল যুগান্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলমসহ অন্যান্য সহকর্মী সাংবাদিকবৃন্দ শেষ শ্রদ্ধা জানান। পরে সেখানে তার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে বাদ মাগরিব মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
যুগান্তরের সাহিত্য সম্পাদক দাদুভাই সত্তরের দশকে গড়া শিশু-কিশোরদের সংগঠন ‘চাঁদের হাট’-এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। এর আগে তার পরিকল্পনায় এবং তত্ত্বাবধানে দৈনিক পূর্বদেশে ‘চাঁদের হাট’ নামে ছোটদের একটি পাতা বের হতো। তখন থেকে তিনি ‘দাদুভাই’ নামে পরিচিতি পান। তিনি যুগান্তরের সাহিত্য সম্পাদক ছাড়াও ঐ প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন। তিনি দৈনিক রূপালী ও দৈনিক জনতার নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। কাজ করেছেন দৈনিক লাল সবুজ, আজাদ, বাংলাদেশ অবজারভারে। সত্তর দশকে তিনি শিশু-কিশোরদের জনপ্রিয় ‘কিশোর বাংলা’ নামের সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদকও ছিলেন। আশির দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য ‘নিধুয়া পাথার কান্দে’ নামে একটি নাটক লিখেছিলেন তিনি, যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ‘বর্গি এলো দেশে’সহ তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা সাতটি। শিশু সাহিত্যে অবদানের জন্য রফিকুল হক দাদুভাই বাংলা একাডেমি পুরস্কার, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার, চন্দ্রাবতী একাডেমি পুরস্কার, নিখিল ভারত শিশুসাহিত্য পুরস্কারসহ দেশে এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন পুরস্কার লাভ করেন।
