সুন্দরবন দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হোক

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৩০

সুন্দরবন মায়ের মতন। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে সুন্দরবনকে ভালোবাসুন। এই প্রতিপাদ্যের মধ্য দিয়ে খুলনা ও সুন্দরবন সংলগ্ন জেলার উপজেলাগুলোতে ১৪ ফেব্রুয়ারি আঞ্চলিকভাবে সুন্দরবন দিবস পালিত হচ্ছে। ২০০১ সাল থেকে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়।

উপকূল অঞ্চলে মানুষের জীবন প্রবাহের সঙ্গে সুন্দরবন আবর্তিত। এই অর্থে সুন্দরবনের ভালো-মন্দ এ অঞ্চলের মানুষকে নাড়া দেয়। সুন্দরবন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ঘূর্ণিঘড়, জলোচ্ছাস থেকে উপকূলীয় জনপদকে আগলে রেখেছে ও রক্ষা করছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য। এ কথা সত্য যে, সুন্দরবন না থাকলে সিডরের প্রচণ্ডতায় উপকূলীয় অঞ্চল প্রাণহীন এক বিরান ভূমিতে পরিণত হতো। সুন্দরবন এলাকার মানুষের বেঁচে থাকার স্বার্থে সুন্দরবনকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। সুন্দরবন বিশেজ্ঞরা ও সুন্দরবনপ্রেমীদের জোরালো দাবি রাষ্ট্রীয়ভাবে সুন্দরবন দিবস পালিত  হোক। এ কোনো আবেগ নয়, বাস্তবতায় অত্যন্ত যৌক্তিক। এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

পর্যটকদের সুন্দরবন সম্পর্কে ধারণা দেওয়া ও সুন্দরবন ভ্রমণে উত্সাহিত করার লক্ষ্যে ২০০১ সালে খুলনায় তথ্য ও শিক্ষা কেন্দ্র খোলা হয়। তাই এই বনের জীববৈচিত্র্যকে সংরক্ষণের জন্য এখনই প্রয়োজন সকল মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস। তাহলে প্রকৃতিপ্রেমীদের পদচারণায় মুখরিত হবে সুন্দরবন। বিকশিত হবে পরিবেশবান্ধব পর্যটনশিল্প। এতে একদিকে যেমন সুন্দরবন বিশ্বসেরা সম্পদ হিসাবে পরিচিতি হবে, তেমনি এ বনের সুরক্ষার কাজ হবে শক্তিশালী। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমন বাড়বে ও দেশের রাজস্ব আয় বাড়বে। উপকূলের অবহেলিত জনপদে প্রাণচাঞ্চল্য এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। তাই সরকারিভাবে সুন্দরবন দিবস পালিত হলে সুন্দরবনের গুরুত্ব আরো বাড়বে। আর সেইসঙ্গে সুন্দরবন সুরক্ষায় সচেতন হবে সকলে। এ ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা, খুলনা