১৯৯৬ সালে শহরবাসীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ‘আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার প্রকল্প’ গ্রহণ করে। যা ২০০০ সাল থেকে নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র নগর মাতৃসদন-এর মাধ্যমে নগর এলাকার সকল অসহায়, হতদরিদ্র বস্তিবাসী ও নিম্ন আয়ের মানুষকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও সাধারণ আয়ের মানুষকে স্বল্পমূল্যে গুণগত মানের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। বর্তমানে ১০টি সিটি করপোরেশন ও ৪টি পৌরসভার ২৫টি কর্ম-এলাকায় ২৫টি সম্প্রসারিত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও ১১২টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ২২৪টি স্যাটালাইট ক্লিনিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে চলেছে। রংপুর সিটি করপোরেশনেও ১টি নগর মাতৃসদন ও ৩টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র ২৪টি স্যাটালাইট ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িত প্রায় ৮৬ জন কর্মচারী। রংপুরের এই প্রকল্পটি ‘খুলনা মুক্তিসেবা সংস্থা’ (কেএমএসএস) নামে একটি বেসরকারি সংস্থা চালায়। আমরা এই প্রকল্পের কর্মীরা রোদ-ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছি। মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার হ্রাসে আমাদের ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে আমরা দীর্ঘ প্রায় ১৫ মাস ধরে বেতনভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। রংপুরের আরবান কর্মীরা বেশিরভাগই দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে এবং এই চাকরিটাই অনেকের একমাত্র অবলম্বন। ১৬ জন বিধবা কর্মী আছেন। গত দুই ঈদ ও দুর্গাপূজায় আমরা বেতন পাইনি। জানতে পেরেছি, খুলনা মুক্তিসেবা সংস্থার অনিয়মের কারণে আমাদের বেতনভাতা বন্ধ রয়েছে। এর কারণ বোধগম্য নয়। আবার মরার উপরে খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, পরবর্তী ফেজে আরবান কর্মীদের বেতনভাতা নাকি কমিয়ে আনা হবে। এই সংবাদটি আরবান-কর্মীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। আমাদের বিভিন্ন সময়ে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হয়। এ কারণে সাধারণ মানুষ তাদের স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বহুলাংশে বঞ্চিত হচ্ছে।
রংপুর ছাড়া অন্য কর্ম-এলাকাগুলোতে ১০ মাসের বেতন এবং দুই ঈদ ও পূজার বোনাস বকেয়া আছে। উলেখ্য, গত ১১-৯-২০১৮ তারিখে একনেক বৈঠকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এগারো শ ছত্রিশ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়ার পরও আমাদের বেতনভাতা না-পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে আমাদের বেতনভাতা প্রদানে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। এ অবস্থায়, প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করে কমিউনিটি ক্লিনিকের মতো সংশিষ্ট জেলার সিভিল সার্জনের মাধ্যমে পরিচালনার ব্যবস্থা নিয়ে এই প্রকল্পের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান কার্যক্রম আরো গতিশীল করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।
মো. রাশেদুল ইসলাম
নিউ জুম্মা পাড়া, রংপুর
