স্পোর্টস রিপোর্টার
বিরতিটা খুব বেশি দীর্ঘায়িত হলো না নিউজিল্যান্ড দলের। ভারতের বিপক্ষে সিরিজ শেষ করার তিনদিনের মাথায় আজ আবারো মাঠে নেমে যেতে হচ্ছে কেন উইলিয়ামসনের দলকে। প্রতিপক্ষ পরিবর্তন, ফরম্যাট পরিবর্তন - এসব ব্যাপারগুলোকে অবশ্য খুব একটা মাথায় রাখছে না দলটি।
ভারতের বিপক্ষে যেমন সবটুকু উজাড় করে দেওয়ার মানসিকতা ছিল, আজো তার কোনো নড়চড় হবে না বলেই বোঝা গেল কোন গ্যারি স্টিডের কথায়। সর্বশেষ ভারতের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজে হারা দলটির কোচ বলেন, ‘যখন থেকে আমি দলের দায়িত্ব নিয়েছি, তখন থেকেই ওয়ানডে ক্রিকেটের জন্য আমরা একটা নির্দিষ্ট পরিকল্পনাতেই স্থিতিশীল ছিলাম। ভারতের বিপক্ষেও আমাদের সেই একই পরিকল্পনাই ছিল, হয়তো সেটা কাজে লাগেনি। এবার প্রতিপক্ষ পাল্টে গেলেও আমাদের পরিকল্পনা একই থাকবে।’
বাংলাদেশ এর আগে কখনোই নিউজিল্যান্ডের মাটিতে জয় পায়নি। ফলে, বলা যায় নিউজিল্যান্ডের মাটিতে খেলাটাই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। এখানে দু’দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত ১০টি ওয়ানডের মধ্যে নিউজিল্যান্ড ১০-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে। এই অবস্থায় প্রতিপক্ষ কোচের একবিন্দুও ছাড় না দেওয়ার মানসিকতা বাংলাদেশ শিবিরে ভীতির সঞ্চার ঘটাতে বাধ্য। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে যদি জানতে চান, তাহলে বরাবরই আমি বলে এসেছি যে আমি প্রতিপক্ষ নিয়ে ভাবি না। বরং আমি নিজেদের খেলাটার দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছি আগে, এবারো তাই দেবো।’
দেশটির শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ‘নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড’ অবশ্য সিরিজ শুরুর আগে সতর্কই করে দিলো স্বাগতিকদের। তারা লিখেছে: ‘বাংলাদেশের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের বড় জয়গুলোর অধিকাংশই এসেছে সেই সময় যখন দলটি ছিল অনেক খর্বশক্তির। তবে, এখন বাংলাদেশ দল নিজেদের এমন একটি অবস্থানে নিয়ে গেছে যেখানে দলটি অন্যরা ভয় না পাক, অন্তত সমীহ করতে বাধ্য। কোচ স্টিড যখন প্রতিপক্ষ না ভেবে নিজেদের খেলাটায় মনোযোগ দেওয়ার মন্ত্র পড়লেন, সেই সময়েই বাংলাদেশ দল হয়তো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে নিজেদের প্রথম ঐতিহাসিক জয়ের সন্ধানে আছে।’
গণমাধ্যমটি মনে করছে যেহেতু আঙুলের ইনজুরির কারণে সিরিজ শুরুর আগেই ছিটকে গেছেন সাকিব আল হাসান, তখন এই সিরিজে বাংলাদেশের জন্য তুরুপের তাস হতে পারেন বাঁ-হাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। তারা লিখেছে: ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে ভীতিকর বোলার এখন মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এই মুহূর্তে সবচেয়ে নিখুঁত বোলারদের একজন। ওয়ানডে র্যাংকিয়ের ছয়ে থাকা এই সিমারের বিধ্বংসী সব স্লোয়ার আর কাটারে আছে তুখোড় দক্ষতা। ইকোনমি রেট ৪.৬ আর বোলিং গড় ২০.৬!’
