আন্তর্জাতিক ব্লকচেইন অলিম্পিয়াডে বিজয়ীরা পেল ৪০ হাজার মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের পুরস্কার

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২১, ২০:১১

মোজাহেদুল ইসলাম

 

অবশেষে ৩ দিনব্যাপী আয়োজিত “আন্তর্জাতিক ব্লকচেইন অলিম্পিয়াড ২০২১” এর সফল সমাপ্তি করল বাংলাদেশ। প্রায় তিন ঘণ্টার জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে শেষ হয় আন্তর্জাতিক ব্লকচেইন অলিম্পিয়াডের এবারের আসর। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষে ১০ অক্টোবর ২০২১, রবিবার রাতে রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে IBCOL ২০২১ এর বর্ণাঢ্য সমাপনী এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। বহুল প্রত্যাশিত এই অলিম্পিয়াড এবারই প্রথম হংকং এর বাইরে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়। এবারের আয়োজনে ১টি সিলভার,  ২টি ক্যাটাগরিসহ ১টি প্রোটোটাইপ ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ সর্বমোট ৪টি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন “আন্তর্জাতিক ব্লকচেইন অলিম্পিয়াড ২০২১” সত্যিই একটি অসাধারণ ইভেন্ট যেখানে সরকার, ইন্ডাস্ট্রি এবং অ্যাকাডেমিয়া সহ সকলের অংশগ্রহণ রয়েছে এবং সকলে একসাথে কাজ করেছে। তিনি বলেন, এই অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুন্দর ও সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে যা ভবিষ্যতের জন্য একটি অভিজ্ঞতা হিসেবে কাজ করবে।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ব্লকচেইনের বহুমাত্রিক ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে বলেন এই প্রযুক্তি হল নতুন ধারার ইন্টারনেট। পলক বলেন, এটা প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যাপক পরিবর্তন আনছে। ফিনটেক, অ্যাগ্রোটেক, হেলথটেক, এডুটেক- প্রতিটি ক্ষেত্রে আজ, কাল অথবা পরশু এই ব্লকচেইন ব্যবহূত হবে। তাই আমাদের এই প্রযুক্তিকে আলিঙ্গন করতে হবে। সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। তরুণদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে পলক বলেন, “দীর্ঘ মেয়াদে ইন্ডাস্ট্রি জুড়ে এই ব্লকচেইন- অপারেটিং মডেলের রূপান্তর করতে সক্ষম হবে।

পরিশেষে অতিথিগণ আনুষ্ঠানিকভাবে “আন্তর্জাতিক ব্লকচেইন অলিম্পিয়াড ২০২১” এর বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন। বিজয়ীদের জন্য সর্বমোট ৪০,০০০ মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়। মোট ৮টি ক্যাটাগরি প্রাইজসহ থিমেটিক প্রাইজ হিসেবে ব্রঞ্জ, সিলভার এবং গোল্ড অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় এবারের আয়োজনে। আইডেন্টি অ্যান্ড প্রাইভেসি ক্যাটাগরিতে হংকং এর “হেল্পপ্রুফ” গোল্ড ম্যাডেল অ্যাওয়ার্ড হিসেবে ১০ হাজার ইএস ডলার পেয়ে বিজয়ী হয়। এছাড়া, সিলভার ম্যাডেল অ্যাওয়ার্ড হিসেবে ফিনটেক ক্যাটেগরিতে বাংলাদেশের “হোপফুল্লি হাইপোথেটিক্যাল্লি থিওরেটিক্যাল্লি” ৭ হাজার ৫ শত ইএস ডলার এবং সাপ্লাইচেইন ক্যাটাগরিতে ভিয়েতনামের “ভিফাচেইন” ব্রোঞ্জ ম্যাডেল অ্যাওয়ার্ড হিসেবে ৫ হাজার ইএস ডলার পায় উক্ত অনুষ্ঠানে।

অন্যান্য ক্যাটাগরির মধ্যে ই-গভার্নেন্স এ বাংলাদেশের রকেট, ডকুমেন্ট অথেন্টিফিকেশন এ বাংলাদেশের ব্রোগ্রামারস্, ফিনটেক এ হংকংয়ের ফিডেলো, হেল্থটেক এ ভিয়েতনামের লাইফলিংক, আইডেন্টি অ্যান্ড প্রাইভেসি ক্যাটেগরিতে ভিয়েতনামের কিডক্যাট, এডুটেক এ ফিলিপিনের এডারনা, সাপ্লাইচেইন এ হংকংয়ের টুলাক্স এবং প্রোটোটাইপের ফিনটেক ক্যাটেগরিতে বাংলাদেশের ডিইউ নিমবাস এর নাম ঘোষণা করা হয়। ক্যাটাগরি ভিত্তিক এই ৮টি প্রজেক্ট প্রত্যেকে পাচ্ছে ২ হাজার ৫ শত ইএস ডলারের পুরস্কার।