ইত্তেফাক রিপোর্ট
ব্যবসা সহায়ক সেবা প্রাপ্তির দীর্ঘসূত্রতার কারণে ব্যবসায়ের পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং এতে স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ওসামা তাসীর। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সরকারের প্রস্তাবিত ‘ওয়ান স্টপ সেবা’ কার্যক্রমের বাস্তবায়ন দ্রুততর করা এবং সরকারের বিভিন্ন নীতিমালার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর দাবিও জানিয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলামের সঙ্গে ডিসিসিআই প্রতিনিধিদলের সাক্ষাত্কালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বর্তমানে জিডিপিতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের অবদান ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০৩০ সালের মধ্যে এটি ৩৫ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। এ জন্য আমদানি-রপ্তানি নীতি, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় নীতি এবং কর নীতিসহ সরকারের অন্যান্য নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর কৌশলপত্র প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এ সময় বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা করার সূচকে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকার (১৭৬তম) বিষয়টি উল্লেখ করে বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
এ সময় বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন বন্দরে পণ্য খালাস ও যাত্রীদের ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ পরিস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ আরও স্থবির হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আগ্রহী বিনিয়োগকারীরা পণ্য খালাস এবং লাগেজ হ্যান্ডলিংসহ অন্যান্য সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। এটি বহির্বিশ্বে আমাদের নেতিবাচক ইমেজ তুলে ধরে। বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নয়নে বিমান, স্থল ও নদীবন্দর, ব্যাংক-বীমা সহ বিনিয়োগ সহায়ক অন্যান্য সেবা প্রদানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ আরও আন্তরিক হওয়ার পাশাপাশি শিগগিরই ওয়ান স্টপ সেবা চালু করার আশ্বাস দেন।
