গার্মেন্টসে শ্রমিক ছাঁটাই ইস্যু
ইত্তেফাক রিপোর্ট
সম্প্রতি গার্মেন্টস খাতে মজুরি ইস্যুতে শ্রম অসন্তোষের জেরে শ্রমিক ছাঁটাই, মামলা, গ্রেফতারে উদ্বেগ জানিয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলোর জোট ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি)। নিরপরাধ ও ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকরা ছাঁটাইয়ে ‘টার্গেট’ হচ্ছেন জানিয়ে এতে সরকার নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ তুলেছে সংগঠনটি। শ্রমিকদের ঢালাও ছাঁটাই বন্ধসহ সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, অন্যথায় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনসহ বৈশ্বিক ফোরামে বিষয়টি উঠানো হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আইবিসি’র উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জোটের মহাসচিব সালাহউদ্দিন স্বপন। আইবিসি ইন্ডাস্ট্রিঅল গ্লোবাল ইউনিয়নের অঙ্গীভুত শ্রম অধিকার জোট। সংবাদ সম্মেলনে আইবিসি’র চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, সাবেক মহাসচিব আমিরুল হক আমিনসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
গার্মেন্টস খাতে নতুন মজুরি ঘোষণার পর বিভিন্ন গ্রেডে মূল মজুরি কাঙ্ক্ষিত হারে না বাড়ার অভিযোগ তুলে গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে বিভিন্ন এলাকার শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শ্রম অসন্তোষ ইস্যুতে এ পর্যন্ত ৩৪টি মামলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার শ্রমিককে আসামি করা হয়েছে এবং শতাধিক শ্রমিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া ৯৯টি কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রায় ১১ হাজার শ্রমিককে বিভিন্ন পন্থায় চাকরিচ্যুত করেছে, যা পোশাক শিল্পে অতীতে ঘটে যাওয়া সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে।
চাকরিচ্যুত করার ক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত কিংবা ট্রেড ইউনিয়নে সক্রিয় শ্রমিকদের টার্গেট করা হচ্ছে। যেসব কারখানা নিজস্ব শ্রমিক দ্বারা কোন ধরণের আক্রমণের শিকার হয়নি এমন সব কারখানাও শ্রমিকদেরকে চাকরিচ্যুত করছে বলেও অভিযোগ তোলে আইবিসি। পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠনের কেন্দ্রীয় তথ্য ভান্ডারকে শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করার ক্ষেত্রে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হতে পারে কিনা সে প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। এসময় সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা, গ্রেফতারকৃত শ্রমিকদের মুক্তি দেওয়া, চাকরিচ্যুত সব শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল করা, শ্রমিকদের বিরুদ্ধে সকল ধরণের নিপীড়ন-নির্যাতন বন্ধ করা ও প্রডাকশনের নামে টার্গেট দিয়ে চলমান শ্রমিক হয়রানি বন্ধ করার দাবি তোলা হয়।
