বৃষ্টির মৌসুম শেষ। খাল-বিল-পুকুর-নদী-নালা সবকিছুর পানি কমছে। শীতে সেগুলো চোখে পড়বে আর চৈত্রে নদীগুলো খাল হবে, খালগুলো হবে খেলার মাঠ। অথচ হাট-বাজার, বিয়ে, উত্সব, পূজাপার্বণ সবকিছুই একসময় নদী এবং খাল কেন্দ্রিক ছিল। এখন যোগাযোগব্যবস্থার প্রসার ঘটাতে এসবের ব্যবহার অনেকাংশে কমেছে এবং অনেক নদী-নালা মৃতই বলা চলে। তবে কিছু নদী-নালা-খাল এখনো রয়ে গেছে বর্ষাকালে উত্তরবঙ্গের পানি বঙ্গোপসাগরে পতিত হবার কারণে। সরকারি প্রকল্পের আওতায় এসব খাল বা ছোট নদীগুলো খনন করা হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। খননকৃত মাটি দুধারে রাখার কারণে উঁচু ভূমির সৃষ্টি হয় যা পলি জমা রোধ করে। প্রায়শই খালের দুধারের জমির মালিকেরা এই উঁচুু জমি ঢালু করেন এবং মাটি খালের দিকে নিয়ে আসেন। এতে করে সমতল ভূমির সৃষ্টি এবং চাষের জমি বাড়ানো হয়। ফলে খাল-ছোট নদীর গভীরতা ও প্রশস্ততা দুটোই হ্রাস পায়। খননের পরবর্তী দু-তিন বছরেই আবার আগের অবস্থার সৃষ্টি হয়। কিন্তু উঁচু জমিটুকুতে যদি কাঠ কিংবা ফলের গাছ রোপণ করা হতো, তবে কৃষকেরা উপকৃত হতে পারতেন এবং খালের প্রশস্ততা ও গভীরতা উভয়ই রক্ষা পেত। পরিবেশ রক্ষা হতো এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়ত। একইসঙ্গে মাটির ক্ষয় রোধ হতো এবং খরা মৌসুমেও সেচের জন্য পানিপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা যেত; কৃষিকাজের প্রসার ঘটত। খালগুলো যেসব নদীতে পতিত হয়েছে সেগুলোর নাব্যতাও বৃদ্ধি পেত। স্থানীয় প্রশাসন এদিকে নজর দিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিলে কৃষি অর্থনীতির বিকাশ হবে। আসুন সবাই সচেতন হই, সচেতনতা সৃষ্টি করি। পরিবেশ রক্ষা করি, নদীর নাব্যতা বাড়াই এবং কৃষি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করি।
আবদুল্লাহ ওমর আসিফ, শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ
