রেফারির হাতে বলি হলো বাংলাদেশ

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২১, ২২:০০

সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

সাফের টিকিটা ছিনিয়ে নিল উজবেকিস্তানের রেফারি আর আখরল। তার ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ফাইনালে উঠার সুযোগটা ছিনতাই হয়ে গেছে। মালদ্বীপের মালে শহরে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নেপালের বিপক্ষে ডু অর ডাই ম্যাচে ১-০ তে এগিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে ফাইনালে উঠল নেপাল। রেফারির হাত ধরে সাফের ফাইনালে খেলার টিকিট পেয়েছে নেপাল। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের এই প্রথমবার ফাইনালে ওঠার সুযোগ পেল নেপাল। পিছিয়ে থাকা নেপালকে ফাইনালে তুলে আনতে রেফারি প্রথমেই গোলকিপার আনিসুর রহমানকে লালকার্ড দিয়ে মাঠ থেকে বের করলেন। এর পরও নেপালকে দিলেন পেনাল্টি উপহার। ব্যাস, ফাইনালে ওঠার দরজা খুলে যায় নেপালের সামনে।

৯৩ সালে সাউথ এশিয়ান গোল্ডকাপ ফুটবলে তৃতীয় স্থান পেয়েছিল নেপাল। সেটাই ছিল সাফের মঞ্চে নেপাল ফুটবলের সবচেয়ে বড় সাফল্য। এর পর নেপাল সাফের ফুটবল মঞ্চে বার বার বাঘের গর্জন দিলেও বার বারই ব্যর্থতার বোঝা কাঁধে নিয়ে ঘরে ফিরতে হয়েছিল। ২০১০ সালে কাঠমান্ডুতে হওয়া সাফে নেপাল বাংলাদেশকে হারিয়ে শুরুটা ভালো করলেও সেবার চ্যাম্পিয়ন হয় আফগানিস্তান।  

এবার সাফের ১৩তম আসর মালদ্বীপে। পাঁচ দলের লিগে গতকাল ছিল শেষ দিন। শনিবার ফাইনালের আগে পুরো রোমাঞ্চটা শেষ দিন পর্যন্ত হিমহিম বৃষ্টির মতো উপমহাদেশের ফুটবলের অনুরাগীদের ভিজিয়েছিল। রোমাঞ্চের সেই মুহূর্তগুলোর শেষ দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় ছিলেন ফুটবল দর্শকরা। সাফের লড়াইটা এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছিল যে, বাংলাদেশকে জিততেই হবে। আর নেপালকে ড্র করলেই চলবে। এই সমীকরণে মালে শহরে লড়াই করতে নেমে বাংলাদেশ প্রথম সুযোগেই গোল আদায় করে নিয়েছিল। খেলার ৯ মিনিটে উইং দিয়ে বল নিয়ে ঢোকার সময় রাকিবকে ফাউল করে ফেলে দেন নেপালের গৌতম শ্রেষ্ঠা। সেই ফাউল থেকে সেটপিস পায় বাংলাদেশ। অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া শট করেন। নেপালের ফুটবলারের গায়ে হালকা ছোঁয়া লেগে বলটা ওপরে উঠে গিয়ে নেপালের বক্সে পড়লে সুমন রেজা লাফিয়ে উঠে মাথা ছোঁয়ান। বলটা নেপালের জালে জড়িয়ে যায় ১-০। এরপরও বাংলাদেশ গোল বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল। নেপাল গোল শোধ করার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু দুই দলের গোলকিপার ছিলেন অতন্দ্র প্রহরী। বাধা হয়ে দাঁড়ান। কিন্তু গোল হচ্ছিল না।

প্রথমার্ধ শেষে দ্বিতীয়ার্ধে নেপাল সুযোগ পেয়ে কাজে লাগাতে পারেনি। বাংলাদেশের সুমন সুযোগ পেয়ে গোল বাড়াতে পারেননি। গোলকিপার কিরণ কুমতারকে একা পেয়েও তার গায়ে বল লাগান। নেপাল একাধিক সুযোগ পেয়েছিল গোল শোধ করার। তাদের কাছে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল বাংলাদেশ দলের গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো। কঠিন কঠিন বল ধরে ফেলেছেন জিকো। ম্যাচ শেষ হতে ১১ মিনিট বাকি। নেপালের আক্রমণের ঝড় বাংলাদেশের রক্ষণ ভেঙে ঘরে ঢুকে যাচ্ছিল। ঝড় সামাল দিতে গোলপোস্ট ছেড়ে বক্সের বাইরে বেরিয়ে আসেন জিকো। বল তার হাতে লাগে। রেফারি জিকোকে লালকার্ড দিয়ে মাঠ ছাড়তে বলেন। ১০ জনের বাংলাদেশ।

সবার চোখে ভাসছিল ভারতের বিপক্ষে ১০ নিয়ে ড্র করে ম্যাচ বাঁচিয়েছিল। খেলা শেষ হতে দুই মিনিট বাকি। বাংলাদেশের বক্সে নেপালের আক্রমণ। বিশ্বানাথ এবং সাদ উদ্দিনের মধ্যখানে অঞ্জন বিস্তা মাটিতে পড়ে যান। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। অঞ্জন বিস্তা গোল করেন, ম্যাচ ড্র হয় ১-১। নেপালের ফাইনালে ওঠার বাধা দূর হয়। বিদায় নেয় বাংলাদেশ।    

বাংলাদেশ :

আনিসুর রহমান জিকো, বিশ্বনাথ ঘোষ, টুটুল হোসেন বাদশাহ, তপু বর্মন, তারিক কাজী, জামাল ভুঁইয়া (সোহেল রানা ৬৩’), সাদ উদ্দিন, বিপলু আহমেদ (আশরাফুল ইসলাম রানা ৮১’), মোহাম্মদ ইব্রাহীম (মতিন মিয়া ৬৮’), রাকিব হোসেন, সুমন রেজা (আতিকুর রহমান ফাহাদ ৮১’)।