সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের শিকার বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২১, ২২:৪১

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলে এবং চলছে নানা সময়ে। এবার সেই প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন উচ্চ আদালতের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। যাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনগড়া তথ্য দিয়ে আপত্তিকর স্ট্যাটাস ও নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। সেই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এবার সরব হয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা। তারা বলছেন, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম একজন পরিশ্রমী, মেধাবী ও প্রজ্ঞাবান বিচারক। যার বিচারিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ন্যায়-নিষ্ঠতা সকলের কাছে সমাদৃত। কিন্তু একটি মহল বেশ কিছুদিন ধরে ভার্চুয়াল মাধ্যমে মিথ্যা ও মনগড়া তথ্য দিয়ে জানানোর চেষ্টা করছে যে, সুনির্দিষ্ট একজন আইনজীবী ঐ আদালতে প্রায় সব মামলা করে যাচ্ছেন। যা সর্বৈব মিথ্যা।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চের চলতি বছরের মামলা নিষ্পত্তির একটি তালিকা ইত্তেফাকের হাতে এসেছে। সেই তালিকা অনুযায়ী গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ঐ বেঞ্চে দুদকসহ ফৌজদারি ও রিট মোশন এবং আপিল মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ৫ হাজার ৯৪৩টি। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসে ৬১০টি রিট মোশন শুনানি হয়েছে। ৩৮৮টি রিট আবেদনের বিপরীতে রুল জারি ও ১৫০টি আবেদন নিষ্পত্তির পাশাপাশি ৭২টি রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে, একজন আইনজীবীই ঐ কোর্টে প্রায় সব মামলা করে যাচ্ছেন। অথচ পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঐ আইনজীবী মূলত ছয়টি রিট আবেদন দাখিল করেছেন। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ কারাগারে আসামিদের ক্ষেত্রে ফিংগার প্রিন্টের প্রচলন মামলায় রুল জারি, ফাঁসির আসামিদের কনডেম সেলে থাকার বৈধতার রিটে প্রতিবেদন তলব এবং ফোনে আড়িপাতা মামলা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে। রাজারবাগের দরবার শরিফের পির দিল্লুর রহমানের সম্পদ ও জঙ্গি সম্পৃক্ততা বিষয়ে খতিয়ে দেখতে দুদক ও কাউন্টার টেররিজমকে অসুন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ। জাপানি নারী নাকানো এরিকোর দুই সন্তান নিজ জিম্মায় নেওয়া মামলাটি অবকাশের পর চূড়ান্ত শুনানির জন্য রয়েছে। এছাড়া ই-কমার্স নিয়ে আরো তিন জন আইনজীবীর দুটি রিট আবেদনের সঙ্গে ঐ আইনজীবীর করা ই-অরেঞ্জের ৩৩ গ্রাহকের ১৬ কোটি টাকা ফেরতের নির্দেশনা চেয়ে করা রিটে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, বিচারপ্রার্থীদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষাই বিচারকদের দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনের কারণেই তারা কারো বন্ধু না হলেও, শত্রুতে যে পরিণত হতে পারেন এই বিষয়টাই যথেষ্ট। আমার যদি ভুল না হয়ে থাকে তাহলে সম্প্রতি জনৈক পিরের খতিয়ান খুঁজে দেখার আদেশের কারণে এহেন অভিযোগ আনা হয়েছে। আইনজীবী হিসেবে যদি এই মর্যাদাহানির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করতে না পারি সেটা হবে ব্যর্থতা।

ব্যারিস্টার অনীক আর হক তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে গত এক বছরে সংশ্লিষ্ট ঐ কোর্টে ২০ এর অধিক মামলা করেছি, যার মধ্যে ইউনাটেড হাসপাতাল এবং কোভিডের সময় স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন মামলা রয়েছে। কিছু জিতেছি, কিছু হেরেছি। বেশ অনেকগুলো এর মধ্যে ফাইনাল হিয়ারিং ছিল। এছাড়া অনেক আইনজীবী আছেন যারা আরো বেশি মামলা করেছেন, কই তাদের নিয়ে তো কোনো কথা ওঠে না? তাহলে শুধু শুধু ভার্চুয়াল মাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়ে কার উপকার করা হচ্ছে?

অ্যাডভোকেট চঞ্চল কুমার বিশ্বাস তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, দেখার বিষয় হলো যখনই বড় বড় প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির মামলাগুলো দেশের নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকে তখনই একটি নির্দিষ্ট মহল বিচার কাজে বাধা সৃষ্টি করার জন্য এবং সংশ্লিষ্ট বিচারপতি মহোদয়দের বিব্রত করার জন্য প্রপাগান্ডা চালান, যাতে করে ঐ নির্দিষ্ট মামলাটির বিচার না হয় বা দীর্ঘ হয়। এখন আমার প্রশ্ন, এদের টার্গেট কি শুধু নির্দিষ্ট বিচারপতি, না বিচার বিভাগ?

 

০