দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফেনী জেলায় নির্মিত হয়েছিল একটি বিমানবন্দর। ১৯৩৮ সালে জাপানের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য বিমানবন্দরটি নির্মাণ করে তত্কালীন ব্রিটিশ সরকার। ফেনী শহরের উত্তরাংশের সুলতানপুর, বারাহিপুর, মজলিশপুর, বিরিঞ্চি, ধর্মপুর ও দেবীপুর এলাকার প্রায় সাড়ে তিন শ একর ভূমির ওপর এটি গড়ে তোলা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি ছিল এশিয়ার বৃহত্তম বিমানবন্দর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিমানবন্দরের চারদিকে অনেক হ্যাঙ্গার তৈরি করা হয় যুদ্ধবিমান লুকিয়ে রাখার জন্য। বিমানবন্দর এলাকায় ২৭টি হ্যাঙ্গার রয়েছে। কিন্তু আজ এই বিশাল বিমানবন্দর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি এই বিমানবন্দরে পুরনো যন্ত্রপাতি যা ছিল সব চুরি হয়ে গেছে। এর মধ্যে ৪৯ একর জমির ওপর ২০০৬ সালে গড়ে ওঠে দেশের দ্বিতীয় গার্লস ক্যাডেট কলেজ। আর বাকি অংশটুকু আস্তে আস্তে ভূমিদস্যুরা বাড়িঘর নির্মাণ, রাইস মিল, কৃষি খামার গড়ে তুলে শত শত একর জমি জবর দখল করে। বিমানবন্দরের রানওয়ে ও সড়কের ইট লুটপাট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখনো দখলদারদের দৌরাত্ম্য কমেনি। বিমানবন্দরটি রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।
মাজহারুল ইসলাম শামীম
শিক্ষার্থী, ফেনী সরকারি কলেজ
