সোহান আহামেদ
মনের সাধ মিটিয়ে মা-বাবা যে সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটাবেন সে সুযোগ খুবই কম। এ অবস্থায় সন্তানদের লম্বা ছুটিটাই মোক্ষম সময়। তবে তার জন্য দরকার একটু পরিকল্পনা। বাচ্চাদের সঙ্গে কাটানোর সময় মা-বাবাকে অবশ্যই শিশুর সঙ্গে কথা বলতে হবে। শিশুর সঙ্গে প্রচুর কথা বলে শিশুকে কথা শেখানো উত্কৃষ্ট পন্থা।
ছুটিতে নিজের সন্তানকে সময় দেওয়া কিংবা ঘুরতে নিয়ে যেতে পারেন সমুদ্র দেখাতে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ছুটির সময় শিশুদের বেড়াতে নিয়ে গেলে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি পায়। আর সমুদ্রে বেড়াতে গেলে তাদের মধ্যে মানসিক ও শারীরিক বিকাশ বৃদ্ধি পায়। এখন অনেক পরিবারে স্বামী-স্ত্রী দু’জনই কর্মজীবী। মা-বাবা ব্যস্ত থাকার কারণে সন্তানকে ঠিকমতো সময় দিতে পারেন না, তারা বছরে নির্দিষ্ট একটা সময় ছুটি নিয়ে সন্তানকে সময় দিতে পারেন। আপনার সন্তানকে শহরের কোলাহল থেকে একটু প্রশান্তি দিতে নিয়ে যেতে পারেন গ্রামের বাড়িতে, সেখানে রয়েছে খোলা হাওয়া। শান্ত প্রকৃতি আপনার সন্তানের মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ঢাকার পাশাপাশি আর যারা ৪-৫ দিনের সময় নিয়ে ঢাকার বাইরে বেড়াতে যেতে চান, তারা যেতে পারেন কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, সিলেটের জাফলং, খুলনার সুন্দরবন, সাজেক-খাগড়াছড়ি। এতে আপনার সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক গাঢ় হবে। সন্তানের মানসিক-শারীরিক বিকাশ হবে সুন্দর। সন্তান বেড়ে উঠবে হাসি-আনন্দে।
শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য গঠনে শিশুকে নিয়ে বেড়াতে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুরা ফুলের মতই কোমল হয়। ফুল যেমন অনুকূল পরিবেশ না পেলে সময়ের আগেই ঝরে যায়, তেমনি শিশুরা বেড়ে ওঠার প্রয়োজনীয় পরিবেশ না পেলে তাদের বিকাশ সুষ্ঠুভাবে হয় না। খেলাধুলা বা বেড়ানো শিশুর বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। মফস্বলের শিশুরা তবুও খেলার জন্য মাঠ পেয়ে থাকে, কিন্তু ঢাকার মতো যান্ত্রিক নগরের শিশুরা খেলার এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। ঘরের এই বদ্ধ পরিবেশে শিশুর বিকাশ হবে না। পিতা-মাতার কাছে সন্তান অমূল্য সম্পদ। তাদের ঘিরেই থাকে সব স্বপ্ন। জন্মের পর থেকেই শিশুর শিক্ষা শুরু হয়। শিশুর শিক্ষার প্রথম পাঠ শুরু হয় মায়ের কাছ থেকে তথা পরিবার থেকে। একটি শিশুকে গড়া মানে একটি জাতি গড়া। আর জাতি গড়ার এ মহান দায়িত্ব ন্যস্ত হয় বাবা-মা ও পরিবারের উপর।
এছাড়া সাপ্তাহিক ছুটিতে বাচ্চাদেরকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যেতে হবে। তার স্বাস্থ্যের কথা ভেবে ঘরই যেন সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হয়ে ওঠে, এ ধারণা থেকে বের হতে হবে। কারণ শিশুর মন তো চায় একটু খোলামেলা পরিবেশ, হই-হুল্লোড়, ফুর্তি। তাই তাদের নিয়ে ঘুরে বেড়াতে হবে। অনেক পার্ক রয়েছে যেখানে আপনি আপনার সন্তানকে নিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারেন। যেখানে যাবেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক (গাজীপুর), ফ্যান্টাসি কিংডম (আশুলিয়া), নন্দন পার্ক (আশুলিয়া), ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক (সায়েদাবাদ), জাতীয় জাদুঘর (শাহবাগ), শিশুপার্ক (শাহবাগ), জাতীয় চিড়িয়াখানা (মিরপুর), ইত্যাদি। তাছাড়া আত্মীয়স্বজন এর বাসায়ও নিয়ে যেতে পারেন। শিশুর সামাজিকীকরণ গড়ে ওঠে পরিবার থেকেই। যেহেতু মা-বাবাই পরিবারের প্রধান, তাই শিশুর মানসিক বিকাশ ও বৃদ্ধির দিকে তাদেরকেই খেয়াল রাখতে হবে। না হয় শিশুর ভবিষ্যত্ হয়ে উঠতে পারে অন্ধকারময়।
