আজ ১৫ অক্টোবর। আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস। ১৯৯৫ সালে বেইজিং-এ অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনে ১৫ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ২০০৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর দিবসটিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ থেকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ২০০৮ সাল থেকে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উদ্যাপন করে আসছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গ্রামীণ নারীদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্দেশ্য থেকেই এই দিবসটির সূচনা।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নের গ্রামীণ নারীরা বিরাট অবদান রাখছেন। গৃহস্থালি কাজের পাশাপাশি কৃষিকাজ, মত্স্য, বনায়ন, গবাদিপশু পালনসহ নানা ধরনের কাজে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছেন গ্রামীণ নারীরা। কৃষি খাতে বীজ সংরক্ষণ থেকে বিপণন পর্যন্ত নারীর অংশগ্রহণ অতুলনীয়। কৃষির বাইরেও তারা উদ্যোক্তা হচ্ছে, কুটির শিল্পে নিয়োজিত হচ্ছে। শিল্প ও সেবা খাতেও নারীর অবদান প্রশংসা করার মতো। বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পে গ্রামীণ নারীর একটা বিরাট অংশ কাজ করছে, যা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গ্রামীণ নারীর বিশাল অবদানকেই তুলে ধরে। কিন্তু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এত অবদান রাখার পরও গ্রামীণ নারীরা তাদের ন্যায্য মূল্যটুকুও পান না, উলটো তারা পরিবার ও সমাজে লাঞ্ছিত, বঞ্চিত, অপমানিত হচ্ছেন। জাতীয় অর্থনীতিতে নারীর অবদান নিরূপণ’ শীর্ষক গবেষণায় দেখা যায়, একজন নারী মজুরি ছাড়া প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮ ঘণ্টা কাজ করেন। একজন নারীর মজুরিহীন কাজের সংখ্যা প্রতিদিন গড়ে ১২ দশমিক ১টি।
একটি দেশের উন্নতির জন্য যেমন অর্থনৈতিক উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই, ঠিক তেমনি অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গ্রামীণ নারীদের অবদান কোনো অংশেই অস্বীকার করার নয়। অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক খাতে একধাপ এগিয়ে যেতে হলে অধিক হারে নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ করার বিকল্প নেই। এর জন্য শিক্ষা, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও জ্ঞানের ভূমিকা অপরিসীম।
অর্থনীতিতে নারীর অবদানকে সঠিক মূল্যায়ন দিতে হলে জাতীয় অর্থনীতিতে নারীর অবদানের কথা পরিসংখ্যানসহ সব রকম দলিলে উল্লেখ করতে হবে, নারীর গৃহস্থালি কাজের সঠিক মূল্য জিডিপি হিসেবে যুক্ত করতে হবে। গৃহস্থালি কাজে তাদের অবদানকে জাতীয় অর্থনীতিতে স্বীকৃতি দিতে হবে। কৃষি ঋণসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। গ্রামীণ এই নারীদের পুরুষের সমান পারিশ্রমিক দিতে হবে। পাশাপাশি নারীদেরকে নিজের অধিকারের জন্য একসঙ্গে লড়াই করতে হবে। আশার আলো হচ্ছে গ্রামীণ নারীরা বর্তমানে শ্রমবাজারে অংশ নেওয়ার ফলে অনেক ধরনের সামাজিক পরিবর্তন এসেছে, পরিবারে তাদের মূল্য বেড়েছে, অনেক ক্ষেত্রে তারা পারিবারিক বিষয়ে মতামতও দিতে পারছে। নারীদের আয়ে পরিবারে খাদ্যপুষ্টি বেড়েছে, ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাওয়ার হার বেড়েছে, বাল্যবিবাহ কমেছে, মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে, শিশুমৃত্যুর হার কমেছে। গ্রামীণ নারীর অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অবদানের মূল্যায়নই পারে আমাদেরকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।
লেখক :শিক্ষার্থী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।
